অস্ট্রিয়ায় সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে অতি ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রিয়ায় এই প্রথম কোনো অতিডানপন্থি দল সাধারণ নির্বাচনে জয় পেল। ফ্রিডম পার্টির এ জয়কে অভূতপূর্ব, ঐতিহাসিক, ভূমিকম্প প্রভৃতি বিশেষণে বিশেষায়িত করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনে জয়লাভ করলেও ফ্রিডম পার্টি সরকার গঠন করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ফ্রিডম পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই সরকার গঠন করতে হলে ফ্রিডম পার্টিকে এক বা একাধিক দলের সঙ্গে জোট গড়তে হবে। কিন্তু জোট গড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। রোববার অস্ট্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ফ্রিডম পার্টি ২৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। বর্তমান চ্যান্সেলর কার্ল নেহামারের ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে।
মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব অস্ট্রিয়া ২১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির জোটসঙ্গী গ্রিনস পেয়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। নির্বাচনের ফলাফলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
ফ্রিডম পার্টির নেতা হার্বার্ট কিকল। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২১ সাল থেকে তিনি ফ্রিডম পার্টির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি অস্ট্রিয়ায় চ্যান্সেলর হতে চান। তবে হার্বার্ট কিকলের অস্ট্রিয়ার নতুন নেতা হওয়ার জন্য পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তাঁর দলের জোটসঙ্গী দরকার হবে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, তাঁরা হার্বার্ট কিকলের নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গড়বেন না।
এদিকে অস্ট্রিয়ার অতিডানপন্থির বিজয়ে মধ্য ইউরোপে রাশিয়াপন্থিরা শক্তিশালী হয়েছে। এফপিও প্রথমবারের মতো অভিবাসনসংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান কট্টরপন্থি এবং চরমপন্থি নীতি গ্রহণ করেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিকেলের অধীনে ইউক্রেনের যুদ্ধের বিষয়টি একটি জাতীয় নির্বাচনে প্রথম এসেছে।

কিকল রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ইউক্রেনের কঠোর সমালোচক হিসেবে ইউরোপে জীবনযাত্রার সংকটের জন্য ব্লকের অবস্থানকে দায়ী করেছেন। ভোটাররা তাদের ইচ্ছা ঘোষণা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জর্গ হায়দার আমাদের জন্য গর্বিত হবেন। প্রায় দুই বছর ধরে জাতীয় মতামত জরিপে নেতৃত্ব দিলেও দলের বিজয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল।’ খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।


















