ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ন

জলবায়ু সংকটকে আরো প্রকট করে তুলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বৈশ্বিক উদ্বেগের মাঝে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন খাতের মতো জলবায়ু সংকটে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে সব আলোচনাই ইতিবাচক নয়। কেউ কেউ দাবি করছেন, জলবায়ু সংকট সমাধানে এআই সহায়তা করবে এটাই শেষ কথা নয়। উল্টো দিকে এ প্রযুক্তি বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু বিষয়ক অপপ্রচার বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি পরিবেশবাদী একটি জোটের প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

প্রযুক্তি কোম্পানি ও জাতিসংঘ আজকাল বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় এআই টুলের ব্যবহার সম্পর্কে প্রচারণা চালাচ্ছে। আফ্রিকার খরার পূর্বাভাস, গলে যাওয়া আইসবার্গের পরিমাপসহ পরিবেশ দূষণের মাত্রা ট্র্যাক করতে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে এআই ব্যবহারের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। সম্প্রতি গুগল তাদের নিজস্ব এআই প্রোগ্রাম জেমিনি চালু করেছে। এছাড়া ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থাপনা পরিমার্জন করতে এআইনির্ভর প্রকল্পও হাতে রেখেছে। গত বছর গুগল দাবি করেছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের ১০ শতাংশ কমাতে পারে, যা ২০৩০ সালে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের উৎপাদিত কার্বন দূষণের সমান। গত ডিসেম্বরে গুগলের চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার কেট ব্রান্ট বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় এআই বড় ভূমিকা রাখবে।’

এসব আশাবাদের মাঝেই পরিবেশবাদী গ্রুপগুলোর নতুন প্রতিবেদনে এআই বিপ্লব জলবায়ু সংকটের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, এআই প্রযুক্তির জন্য ডাটা সেন্টারগুলো প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ করছে, পাশাপাশি এ প্রযুক্তির মাধ্যমে আগামীতে জলবায়ুবিষয়ক অপপ্রচারও বাড়াবে। বিশেষ করে বিদ্যুতের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সারা বিশ্বে সমস্যা আকারে রয়ে গেছে।

জলবায়ু সচেতনাবিষয়ক গ্রুপ ফ্রেন্ডস অব দি আর্থের ক্লাইমেট ডিসইনফরমেশন প্রোগ্রামের ডিরেক্টর মাইকেল খু বলেন, ‘আমরা সবসময় শুনে আসছি এআই পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু এ ধরনের প্রচারণা আমাদের এত সহজে বিশ্বাস করা উচিত নয়। আগামী বছরগুলোয় এআই কত বেশি বিদ্যুৎ খরচ করছে তা দেখে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হবে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ ডাটা সেন্টার তৈরি করতে হবে। সেক্ষেত্রে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের জন্য বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে কয়লাভিত্তিক কারখানার ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, তিন বছরের মধ্যে এআই সার্ভারগুলো সুইডেনে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সমপরিমাণ শক্তি খরচ করবে।

এদিকে অপতথ্য প্রচার নিয়েও এআইয়ের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রেও তেমনটাই আশঙ্কা করছেন অ্যালেন ইনস্টিটিউট ফর এআইয়ের সিনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট জেসি ডজ। তিনি বলেন, ‘এআই জলবায়ুবিষয়ক মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের পথকে আরো সহজ করে দেবে।’

প্রতিবেদনে এআইয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে আরো স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি জলবায়ু বিষয়ক ভুল ও মিথ্যা তথ্য রোধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অবশ্য পরিবেশবাদী পক্ষগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখেন না। আপত্তি তোলার পাশাপাশি এও বলছেন, এআইয়ের সঠিক ব্যবহার হলে জলবায়ু সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় এটি নানাভাবে সহায়তা করতে পারে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ