ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৪ পূর্বাহ্ন

চাকরির বাজারে বড় কোনো ক্ষতি করবে না এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে চলমান শঙ্কার মাঝে ভিন্ন মত জানিয়েছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি। তিনি বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ হবে না এআই। বরং তাৎপর্যপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করছে। খবর বিবিসি।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে কথা বলছিলেন অ্যান্ড্রু বেইলি। অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ হিসেবে অতি চর্চিত এ প্রযুক্তির ভূমিকাকে হুমকি হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। অ্যান্ড্রু বেইলির মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ঐতিহাসিকভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবন কর্মপরিসরকে আরো বিকশিত করেছে।

নিজেকে আশাবাদী উল্লেখ করে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর বলেন, ‘মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে একটি আন্তঃসম্পর্কীয় যোগাযোগ রয়েছে।’ নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে কর্মীদের দক্ষতার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন। তার মতে, মানব বুদ্ধিমত্তা ও এআইয়ের মধ্যে সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণে এতে যেকোনো কাজ মানুষের একা করার তুলনায় ভালো ফল পাওয়া যায়।

অবশ্য এআই নিয়ে প্রতিনিয়ত নানা সমালোচনার মুখে পড়ছেন পরিকল্পনা প্রণয়নকারীরা। কর্মক্ষেত্রে প্রভাবের বাইরেও এআই নিয়ে অন্যতম সমালোচনা হলো প্রায়ই এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সরলীকরণে পর্যবসিত হয়। একই সঙ্গে অবাধ ও অপব্যবহার নিয়েও আতঙ্কে বিশ্ববাসী।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছিল যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে। এ প্রবণতা শ্রমবাজারে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরো গভীর করবে। গত মাসে এক ব্লগ পোস্টে সংস্থার প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সরকারগুলোকে এআইয়ের অভিঘাত মোকাবেলায় সামাজিক সুরক্ষা তৈরি বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জোর দেয়ার আহ্বান জানান।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এমন দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুয়েট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একটি গবেষণা দল। তাদের মতে, যতটা আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা বাস্তবে পরিণত করা সহজ নয়। কারণ বেশির ভাগ কর্মক্ষেত্র নতুন প্রযুক্তিকে জায়গা দিতে প্রস্তুত নয়।

এমআইটির গবেষকদের এক জরিপে দেখা গেছে, এর আগে যতটা আশঙ্কা করা হয়েছে শ্রমবাজারে এআইয়ের প্রভাব সম্ভবত তার চেয়ে অনেক ধীরগতিতে পড়বে।

এআই মানুষের কাজকে কতটা স্বয়ংক্রিয় করবে, এ প্রশ্নের পাশাপাশি জরিপের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কবে নাগাদ এ রূপান্তর ঘটতে পারে। গবেষকরা ফলাফলে দেখতে পান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যান্ত্রিক প্রতিস্থাপন প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে উপকারী হবে না।

অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, মানুষকে মজুরি দেয়া হয়—এমন ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিস্থাপন নিয়োগকর্তার জন্য সাশ্রয়ী হবে। যদিও এর হার সময়ের সঙ্গে বাড়বে। তবে সামগ্রিক অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, চাকরির বাজারে এআইয়ের অভিঘাত সম্ভবত ধীরগতিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে এআইয়ের প্রভাব অনেকটাই চোখে পড়ে। গত জানুয়ারিতে পূর্বাভাসের দ্বিগুণ কর্মী নতুন কর্মসংস্থানে যোগ দেয়। তবে প্রযুক্তিভিত্তিক খাতে ব্যাপক কাটছাঁটের ঘোষণা এসেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ কোম্পানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগকে ভবিষ্যতের জন্য লাভজনক মনে করছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ