রাশিয়ার ভাড়াটে সংগঠন ওয়াগনারের বিদ্রোহ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বোরবার রাতে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাদের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। সোমবার এক প্রতিবেদন এ খবর নিশ্চিত করেছেন দ্য গার্ডিয়ান
এদিকে জেলেনস্কিও এক টুইটার পোস্টে ফোনালাপে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। আমরা শত্রুদের গতিবিধি ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক বিদ্রোহ নিয়ে কথা বলেছি। এ ছাড়া দূরপাল্লার অস্ত্র নিয়েও আমাদের মধ্যে আলাপ হয়েছে।
জেলেনস্কি ওই পোস্টে আরও লিখেছেন, শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলের উচিত রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখা।
গত শনিবার রুশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের পতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহের ডাক দেন ভাড়াটে সেনাগোষ্ঠী ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজনি প্রিগোজিন। মস্কো দখলের উদ্দেশ্যে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে যাত্রা শুরু করে রোস্তভ-অন-দন শহরের আঞ্চলিক সেনা সদর দপ্তরও দখল করে নেয় ওয়াগনার সেনারা।
পরে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির পর ওয়াগনর সেনারা মস্কোযাত্রা থামিয়ে দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রিগোজিনসহ ওয়াগনার সেনারা বেলারুশে চলে যাবেন। বিদ্রোহের কারণে প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার হবে।

সমঝোতার পর ওয়াগনার প্রধান বলেন, রক্তপাত এড়াতে ওয়াগনার যোদ্ধাদের মস্কোযাত্রা থামিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ওয়াগনারের বিদ্রোহ শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্রোহের আপাত অবসান হলেও রাশিয়ায় বড় ধরনের রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
বার্তা সংস্থা এএফপডপি জানিয়েছে, এই বিদ্রোহের পর গতকাল রাতে টেলিফোনে কথা হয় বাইডেন ও জেলেনস্কির মধ্যে। জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে আগামী মাসে ন্যাটোর সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সম্মেলন প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে।
এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। ওয়াগনারের অভ্যুত্থানচেষ্টাকে ইউক্রেন কীভাবে দেখছে, যুদ্ধের ময়দানে এ ঘটনার কী ধরনের প্রভাব পড়বে, এসব নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।
এ ছাড়াও জেলেনস্কি কথা বলেছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদার সঙ্গেও। তার সঙ্গেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন জেলেনস্কি।


















