ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ন

স্মার্টফোন ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায়

তথ্যপ্রযুক্তি জগতে প্রবেশের পর নিজের ও পরিবারের তথ্য সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে আসে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। হ্যাকারদের কাছেও চলে গেছে এ প্রযুক্তি। তাই বর্তমান সময়ে নিজের ব্যবহৃত ডিভাইস ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ব্যবহারকারীকেই সতর্ক থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বেশকিছু বিষয় অবলম্বন করতে হবে। (টেকটাইমস অবলম্বনে)

১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন ব্যবহার: নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রথম ধাপেই রয়েছে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার। আর এজন্য সিম্বল, নাম্বার, আপার ও লোয়ারকেস অক্ষর ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি অপশন থাকলে বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেশিয়াল রিকগনিশন ব্যবহার করতে হবে।

২. বিশ্বস্ত সূত্র থেকে অ্যাপ ডাউনলোড: গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে সাধারণত নিরাপদে অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়। তবে চাইলে তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়। তবে অধিকাংশ প্লাটফর্মই নিরাপদ থাকে না। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

৩. অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ সবসময় আপডেট রাখা: প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত সফটওয়্যারে কোম্পানি থেকে আপডেট দেয়া হয়। মূলত ডিভাইসকে ম্যালওয়্যার ও অন্যান্য আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতেই আপডেট দেয়া হয়। তাই আপডেট আসার পর তা দ্রুত ইনস্টল করে নিতে হবে।

৪. ভিপিএনের মাধ্যমে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার: পাবলিক বা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত হ্যাকারদের জন্য স্বর্গ। কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে যেকোনো ধরনের তথ্য বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এ কারণে তথ্য ও ডিভাইসের সুরক্ষা ভিপিএন অ্যাপের মাধ্যমে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া ভালো।

৫. অনলাইনে তথ্য শেয়ারের বিষয়ে সতর্ক থাকা: অনলাইনে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে কয়েকবার ভাবতে হবে। বিশেষ করে বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ইত্যাদি। এসব তথ্যের অপব্যবহারের মাধ্যমে হ্যাকাররা অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ গুরুতর অপরাধ করতে সক্ষম।

৬. সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার করা: বর্তমানে স্মার্টফোনকে ম্যালওয়্যারসহ যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন সিকিউরিটি অ্যাপ রয়েছে। এসব অ্যাপ ডিভাইসে কোনো ম্যালওয়্যার আছে কিনা সেটি শনাক্তে সহায়তা করবে। এছাড়া ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বন্ধ করা ও ক্ষেত্র বিশেষে ডিভাইসের অবস্থানও জানাবে।

৭. সবসময় ডাটা বা তথ্য ব্যাকআপ রাখা: স্মার্টফোন বা ডিভাইস যেকোনো সময় চুরি হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় তথ্য চিরতরে হারানোর আগে সেগুলো সবসময় ব্যাকআপ করা জরুরি। এজন্য ক্লাউড সার্ভার, কম্পিউটার বা এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভও রয়েছে।

৮. ফিশিং স্ক্যামের বিষয়ে সতর্ক থাকা: ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ধারণ করে হামলা চালানোই ফিশিং স্ক্যাম। এ ধরনের হামলায় ব্যাংক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুরূপ লিংক পাঠানো হয়। কিন্তু সেগুলোয় ম্যালওয়্যার থাকে। ক্লিক করার সঙ্গেই তা পুরো সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কোনো লিংক দেখলেই ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে ও যাচাই করতে হবে।

৯. অ্যাপ পারমিশন দেয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা: কোনো অ্যাপ ইনস্টলের পর সেটি চালানোর জন্য বেশ কিছু বিষয়ের অনুমতি দিতে হয়। এর মধ্যে ডিভাইসে থাকা কনটাক্ট, লোকেশন, মাইক্রোফোন, স্টোরেজ ও ক্যামেরা অন্যতম। এসব তথ্য খুবই সংবেদনশীল।

১০. আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা: পাবলিক প্লেসে সেলফোন ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে। খুব জরুরি না হলে কাউকে ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার না করতে দেয়াই ভালো। এছাড়া আর্থিক লেনদেন অ্যাপের পাসওয়ার্ড ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ