কোভিড-১৯ এর কারণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক দশমিক ছয় শতাংশে নেমে যেতে পারে। তবে তা পরের বছর বেড়ে তিন দশমিক চার শতাংশে উন্নীত হওয়ারও আভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ইকোনমিক ফোকাস রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলটি এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, করোনায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। লাখ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এসব কারণে চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়তে পারে। যেখানে গত পাঁচ বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হার ছয় শতাংশের ওপর স্থির ছিল।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিশ্ব ব্যাংক বক্তব্য, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। কিন্তু করোনা এসে সব ওলট-পালট করে দিয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, রেমিটেন্স প্রবাহ কমে আসতে পারে। পোশাক খাতও পড়বে চাপের মুখে। গত দুই মাসে প্রবাসী আয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, কাজ হারিয়ে দেশে ফেরার আগে প্রবাসীরা সব সঞ্চয় দেশে পাঠিয়েছেন। রেমিটেন্স প্রবাহ তারই ফল হতে পারে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক কিছু সুপারিশ করেছে। এরমধ্যে আর্থিক খাত ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আসন্ন শীত মৌসুমে করোনা ভাইরাস বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় জেলা হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা।


















