ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ৭:২৯ পূর্বাহ্ন

ভারতের অনেক শিশুই এখন এরতুগ্রুল! কী এর কারণ?

দিরিলিস:এরতুগ্রুল। এটি একটি তুর্কি টেলি-ড্রামা। যা এরই মধ্যে পুরো পৃথিবীতে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে এভাবে এতোটা জনপ্রিয়তা কোনো সিরিয়াল এতো সহজে পায়নি।

‘দিরিলিস’ শব্দের অর্থ রেজারেকশন বা পুনর্জন্ম, আর এটি তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার আগের ইতিহাস নিয়ে তৈরি।

ত্রয়োদশ শতকে ওঘুজ তুর্কীদের নেতা এবং সে দেশের কিংবদন্তী নায়ক এরতুগ্রুলের জীবন নিয়েই বাঁধা হয়েছে এই টেলি-ড্রামার গল্প। এই এরতুগ্রুলের পরিচয় হচ্ছে, তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ওসমানের পিতা। মুসলিম বিশ্বের নানা দেশে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এই এপিক তুর্কী ড্রামাটি এখন কাশ্মীর-সহ ভারতের মুসলমানদের মধ্যেও ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পাঁচটি সিজনে পরিব্যাপ্ত ৪৪৮টি এপিসোড বা পর্বের এই বিশাল উপাখ্যান অনেকে মাত্র এক-দেড় মাসের মধ্যেও পুরোটা দেখে ফেলেছেন।

২০১৭ সালের অক্টোবরে নেটফ্লিক্স তুরস্কের এই ঐতিহাসিক ড্রামাটি অনলাইনে ‘স্ট্রিম’ করতে শুরু করার পরই ভারতে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আজকের ভারতবর্ষে মুসলিমরা যে আত্মপরিচয়ের সঙ্কট বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছেন, সেই শূন্যতার জায়গা থেকেই হয়তো তারা ভিনদেশি এই ঐতিহাসিক উপাখ্যানের সঙ্গে নিজেদের অনেকটা ‘রিলেট’ করতে পারছেন – আর সে কারণেই এরতুগ্রুল ভারতে এতটা জনপ্রিয় হয়েছে।

ভারত ও তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও, তুরস্কের একটি টেলি-ড্রামা ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে এতটা সাড়া ফেলার কারণ হচ্ছে এটার টানটান গল্প, নাটকীয়তায় ভরা প্লট, দারুণ অভিনয় আর দুর্ধর্ষ স্পেশাল এফেক্টস। এরতুগ্রুল একবার দেখতে বসলে সেটা ছেড়ে ওঠাই মুশকিল। এমনটাই অনেকের মন্তব্য।

তাছাড়া, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণে ভারতীয় মুসলিমরাও হয়তো এই তুর্কী গল্পটা একাত্মবোধ করে ভালবেসে ফেলছেন।

‘দিরিলিস: এরতুগ্রুল’ ভারতীয় মুসলিম সমাজে শুধু জনপ্রিয়তাই অর্জন করেনি; বরং সমাজে প্রভাবও ফেলতে সক্ষম হয়েছে। যেমন গত দু-তিন বছরে ভ্যালিতে যে শিশুরা জন্মেছে, সেই নবজাতকদের অনেকেরই নাম রাখা হয়েছে ‘এরতুগ্রুল’। অথচ কস্মিনকালেও কাশ্মীরের সোপোর, পুলওয়ামা বা বারামুলা-তে ইতোপূর্বে ‘এরতুগ্রুল’ নামে কেউ ছিল না।

এমনকি শীতের মৌসুমেও কাশ্মীরে এরতুগ্রুল স্টাইলে’র টুপিও দেখা যাচ্ছে। গাঢ় ওয়াইন-রঙা এই ধরনের মাথা ও কান-ঢাকা ফার বা পশমী টুপি তুরস্কে খুব জনপ্রিয় হলেও কাশ্মীরে তা কিন্তু কখনওই পরার কোন চল ছিল না।

আর এ সব পরিবর্তনের মূলে রয়েছে একটি অসম্ভব জনপ্রিয় তুর্কী টেলি-ড্রামা ‘ডিরিলিস: এরতুগ্রুল’।

তবে ‘দিরিলিস: এরতুগ্রুল’ -কে নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকরা মনে করেন যে এই সিরিজের মাধ্যমে সুকৌশলে যে মুসলিম জাতীয়তাবাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে তার ক্ষমতা সংহত করতে সাহায্য করছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ