ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন

ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, আরও বড় হামলার আশঙ্কা জেলেনস্কির

বড়দিনের আনন্দের আগেই অন্ধকার নেমে আসল ইউক্রেনে। শুক্রবার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নেমে আসে ইউক্রেনের মাটিতে। ৭০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে দিনভর। এরমধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে রাজধানী কিয়েভে। যার ফলে কিয়েভজুড়ে ইমার্জেন্সি ব্ল্যাকআউট ঘোষণা করতে হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইউক্রেনে এত বড় মাপের হামলা চালাল রাশিয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুইদিনের ভয়াবহ হামলায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে পুরো ইউক্রেন। তীব্র ঠান্ডায় অন্ধকারে লাখো বাসিন্দা। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে মূল প্রশাসনিক ভবন। তাছাড়া, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন- রেডক্রসের সহায়তা কেন্দ্রেও পড়েছে গোলাবারুদ। তাতে প্রাণ গেছে এক স্বেচ্ছাসেবী নারী চিকিৎসক এবং এক রোগীর। গেল মাসেই রাশিয়ার দখল থেকে খেরসন পুনর্নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল ইউক্রেনীয় বাহিনী।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে খেরসনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ইউক্রেন। ফেব্রুয়ারিতে রুশ হামলা শুরুর পর খেরসনের নিয়ন্ত্রণ হারানো ছিল মস্কোর সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি।

ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে চলছে হামলা। মূলত বেসামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেন, শহরের তিনটি এলাকায় হামলা হয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু সময়ের জন্য শহরের মেট্রোরেল পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার ভোলকার কুর্ক রাশিয়াকে সতর্ক করেছেন। তার দাবি, বিরতিহীন হামলায় অমানবিক পরিস্থিতির মুখে ইউক্রেনের লাখ-লাখ মানুষ। এই মুহূর্তে দেশটির এক কোটি ৮০ লাখ বাসিন্দার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যৃ হয়েছে। মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাইরি রিহের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে, সেই হামলায় কমপক্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণে অবস্থিত খেরসনে ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরই এক ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ৭০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার কাছে আরও অনেক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, যা দিয়ে একাধিক বড় হামলা চালাতে পারে। তাই পশ্চিমা দেশগুলোকেও আরও অস্ত্র সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন যথেষ্ট শক্তিশালী, ঠিক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। মস্কোর ‘রকেট পুজারী’রা যাই-ই পরিকল্পনা করে থাকুক না কেন, এই যুদ্ধের ভারসাম্য বদলাবে না। ইউক্রেনের দিকেই পাল্লা ভারি থাকবে।

এরআগে বৃহস্পতিবারই কিয়েভের পক্ষ থেকে সতকর্তা জারি করা হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল, নতুন বছরে রাশিয়া আরও বড় মাপে, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি একাধিক পরমাণু কেন্দ্রগুলিতেও লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শুক্রবার সবথেকে ভয়ঙ্কর হামলা চালায় রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনে প্রবল তুষারপাত হওয়ায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু কেন্দ্র থেকে অত্যন্ত ক্ষতিকর তরল আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পরমাণু শক্তিই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম মাধ্যম হওয়ায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইমার্জেন্সি ব্ল্যাকআউট জারি করতে হয়। আগেও একাধিকবার পরমাণু কেন্দ্রগুলির উপরে হামলা চলায়, কেন্দ্রগুলি সংস্কার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ