ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ন

আরও ৯ লাখ টন চাল আমদানি হচ্ছে

শিগগিরই ৯ লাখ টন চাল আমদানি করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে এই পরিমাণ চাল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

উল্লেখিত পরিমাণের মধ্যে চার লাখ টন কেনা হবে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে। আর বাকি পাঁচ লাখ টন দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল বারিক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চাল আমদানির দরপত্র দাখিলের সময়সীমা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের ৪২ দিনের পরিবর্তে ১৫ দিন করার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। দ্রুত চাল আমদানি নিশ্চিত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারই নির্ধারণ করবে। বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে ডলারসহ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারিত হবে। তবে ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারে যে ঊর্ধ্বসীমা আরোপ করা আছে, তা আপাতত প্রত্যাহারের কথা ভাবছে না সরকার।

মুস্তফা কামাল বলেন, অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির দেশে যেভাবে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনা হয়, বাংলাদেশেও একইভাবে হবে। তবে ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারে যে সীমা আরোপ করা আছে, তা আপাতত তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। কারণ, বাংলাদেশে সুদহারের মাধ্যমে মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন। এ জন্য সরকার আর্থিক ও মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার আশঙ্কা তিনি করছেন না। কারণ রপ্তানি আয় বাড়ছে। কমছে আমদানি ব্যয়। অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ২০০ কোটি ডলার করে আসছে। ফলে রিজার্ভ আগামীতে বাড়বে এবং শিগগিরই আগের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারে যেতে পারে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির আলোচনা চলছে। আলোচনা চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশি টাকা ও রাশিয়ান মুদ্রা রুবল ‘সোয়াপ’ করে দাম পরিশোধের চেষ্টা করা হবে।

শিগগিরই সব সংকট কেটে যাবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিকল্পনা তখনেই সফল হবে যখন সেটির বাস্তবায়ন যথাযথভাবে করা হয়। আর অগ্রিম হিসেব করে কখনোই কোনো কিছু নিশ্চিত হওয়া ঠিক নয়। বাস্তবে পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পেয়ে আমাদেরকে আগাতে হবে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বৈদেশিক মুদ্রা খরচে আরো বেশি সচেতন হতে হবে সরকারকে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ