বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। তদন্তে পাওয়া আটটি কারণ উল্লেখ করে এই আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর একই আদালত দীপের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দেহভাজন এক তরুণী বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী বাসায় ফিরে যান। পরদিন রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখান থেকে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে পৌঁছে কয়েকজন লোককে দেখতে পেয়ে তারা আলাদা হয়ে যান বলে দীপ দাবি করেছেন।
পুলিশের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো গোপন রেখে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন।
দীপকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে আটটি কারণ তুলে ধরেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে, তার উপস্থিতিতে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই ও বিশ্লেষণ, নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে তাহসিফের সঙ্গে অবস্থানের সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যত্র গিয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড সংগ্রহ ও পর্যালোচনা।
এ ছাড়া হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার, হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের জন্য দীপকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর অন্য একটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ। পরে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।
অন্য একটি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে দীপের জন্য অপেক্ষা করছেন। হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পরে তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। ওই রাতের চলাচল, যাতায়াত এবং বিভিন্ন স্থানে তাহসিফের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তাহসিফের বন্ধু দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।