মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের সাত বছর মেয়াদি সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির টিয়ার-২ মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। ফলে মূলধন কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক মূলধন ব্যবস্থাপনাতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০৯তম সভায় মেঘনা ব্যাংকের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। কমিশনের সভায় পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকটির সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিএসইসির অনুমোদন অনুযায়ী, মেঘনা ব্যাংকের প্রস্তাবিত বন্ডটি হবে নন-কনভার্টিবল, আনসিকিউরড, ফুললি রিডিমেবল, কুপন বিয়ারিং, ফ্লোটিং রেট এবং সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। অর্থাৎ নির্ধারিত মেয়াদ শেষে বন্ডের মূল অর্থ পরিশোধের কাঠামো থাকবে এবং এটি সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে বন্ডটির কুপন বা সুদের হার স্থির কোনো নির্দিষ্ট হারে না থেকে নির্ধারিত রেফারেন্স রেটের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট মার্জিন যুক্ত করে নির্ধারণ করা হবে।
প্রস্তাবিত বন্ডটির কুপন রেট নির্ধারণ করা হবে রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে। ফলে বাজারের রেফারেন্স রেটের পরিবর্তনের সঙ্গে বন্ডটির কার্যকর কুপন রেটও পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ থাকবে। ফ্লোটিং রেটের এই কাঠামো বর্তমান সুদহার ও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্ডের রিটার্ন নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার এই বন্ড সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত পাবলিক অফারের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে না। বরং প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ডটি ইস্যু করা হবে।
বিএসইসির অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড এবং বিমা কোম্পানির কাছে বন্ডটি ইস্যু করা হবে। ফলে ব্যাংকটি তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট ও যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।
প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বন্ড ইস্যুর অন্যতম সুবিধা হলো নির্দিষ্ট বিনিয়োগকারী শ্রেণির কাছে দ্রুত মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হওয়া। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা করে থাকে।
মেঘনা ব্যাংকের বন্ড ইস্যুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকটির বেসেল-৩ কাঠামোর আওতায় টিয়ার-২ মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা। ব্যাংকিং খাতে মূলধনের পর্যাপ্ততা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ পর্যাপ্ত মূলধন ব্যাংকের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
ব্যাংকের মূলধন কাঠামোর একটি অংশ হলো টিয়ার-২ মূলধন। সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড সাধারণত এ ধরনের মূলধন কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহূত হয়। ফলে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে মেঘনা ব্যাংক তার নিয়ন্ত্রক মূলধনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকের জন্য পর্যাপ্ত মূলধন শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয় নয়; এটি ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে ঋণ ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মূলধন ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মেঘনা ব্যাংকের প্রস্তাবিত সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডটির মেয়াদ সাত বছর। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি তুলনামূলক দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হবে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক একদিকে যেমন দীর্ঘ সময়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে পারে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরাও নির্ধারিত কাঠামোর আওতায় কুপন আয়ের সুযোগ পান। বন্ডটির প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা প্রতিটি বন্ডের জন্য ৫ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করবেন।
৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যে এই বন্ড ইস্যু করা হলেও পুরো অর্থ সংগ্রহের কাঠামো এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নির্ভর করবে অনুমোদিত শর্ত ও বাজার পরিস্থিতির ওপর। তবে বিএসইসির অনুমোদনের ফলে ব্যাংকটির জন্য বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
মেঘনা ব্যাংকের বন্ডটি নন-কনভার্টিবল হওয়ায় এটি ব্যাংকের সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য হবে না। অর্থাৎ বন্ডে বিনিয়োগকারীর মালিকানা ব্যাংকের শেয়ারে পরিণত হবে না। এতে বিনিয়োগকারীর রিটার্ন মূলত বন্ডের নির্ধারিত কুপন কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে।
অন্যদিকে এটি আনসিকিউরড বন্ড হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সম্পদ জামানত হিসেবে রেখে বন্ডটি ইস্যু করা হচ্ছে না। সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড হওয়ায় ব্যাংকের অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দায়ের তুলনায় এর দাবি কাঠামো আলাদা হবে। এসব বৈশিষ্ট্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বন্ডের ঝুঁকি ও রিটার্ন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
মেঘনা ব্যাংকের বন্ডের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ফ্লোটিং কুপন রেট। কুপন রেট রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে নির্ধারণ করা হবে। ফলে বাজারের রেফারেন্স রেটের পরিবর্তনের সঙ্গে কুপন রেটও পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ থাকবে।
ফ্লোটিং রেটের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারের সুদহারের গতিপ্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সুদহার বাড়লে বন্ডের কুপন রেট বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আবার রেফারেন্স রেট কমে গেলে কুপন রেটও কমতে পারে। তাই বন্ডে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কুপন নির্ধারণের বিস্তারিত শর্ত, রেফারেন্স রেট এবং অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।
মেঘনা ব্যাংকের এই বন্ডের বিনিয়োগকারী হিসেবে নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড এবং বিমা কোম্পানি।
এ ধরনের বিনিয়োগকারীদের সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা থাকে। ফলে ব্যাংকটি বন্ডের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।
বন্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য অবশ্য ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, মূলধনের পর্যাপ্ততা, সম্পদের মান, ঋণের গুণগত মান, আয় ও মুনাফার ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মেঘনা ব্যাংকের প্রস্তাবিত বন্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি। অন্যদিকে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করবে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।
বন্ড ইস্যু প্রক্রিয়ায় ট্রাস্টি ও ইস্যু ম্যানেজারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাস্টি সাধারণত বন্ডহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা এবং বন্ডের শর্ত অনুসরণের বিষয়গুলোয় দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে ইস্যু ম্যানেজার বন্ড ইস্যুর কাঠামো তৈরি, প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমানতনির্ভর অর্থায়নের পাশাপাশি বন্ডসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস ব্যাংকের তহবিল কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করতে পারে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক মূলধনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ব্যাংকগুলোর জন্য একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর উদ্যোগও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি একদিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করবে, অন্যদিকে বেসেল-৩ কাঠামোর আওতায় টিয়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করতে পারবে।
তবে বন্ডের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করলেই ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী হয়ে যায় না। সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহূত হচ্ছে, ব্যাংকের ঋণের মান কেমন, খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি কী, আয় ও মুনাফার প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
মেঘনা ব্যাংকের এই বন্ড ইস্যুর অনুমোদন বিনিয়োগকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু কুপন রেট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়। বন্ডটি সাব-অর্ডিনেটেড ও আনসিকিউরড হওয়ায় এর ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে বন্ডের মেয়াদ, রিডেম্পশন কাঠামো, কুপন সমন্বয়ের নিয়ম এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার বিষয়গুলো বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত।
বিশেষ করে ফ্লোটিং কুপন রেটের কারণে ভবিষ্যৎ রিটার্ন বাজারের রেফারেন্স রেটের পরিবর্তনের সঙ্গে ওঠানামা করতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারের সুদহার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিএসইসির অনুমোদন বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কমিশনের অনুমোদনের ফলে নির্ধারিত শর্ত মেনে মেঘনা ব্যাংক বন্ড ইস্যুর পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেঘনা ব্যাংকের বন্ড অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কমিশনের সভায় ব্যাংকটির ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের সাত বছর মেয়াদি সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বিএসইসির অনুমোদনের পর এখন মূল বিষয় হবে বন্ডটির বাস্তবায়ন। নির্ধারিত বিনিয়োগকারী শ্রেণির কাছ থেকে ব্যাংকটি কতটা সফলভাবে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে এবং সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে টিয়ার-২ মূলধন কাঠামো কতটা শক্তিশালী হয়, সেটিই হবে পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একই সঙ্গে বন্ডের অর্থ ব্যাংকের সামগ্রিক মূলধন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তাও পর্যবেক্ষণের বিষয়। ব্যাংকটি যদি সংগৃহীত মূলধন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং একই সঙ্গে সম্পদের মান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকের মৌলিক আর্থিক সূচকগুলোর ওপর নজর রাখাও জরুরি। কারণ একটি ব্যাংকের আর্থিক শক্তি শুধু মূলধনের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না; ঋণের গুণগত মান, খেলাপি ঋণ, প্রভিশন সংরক্ষণ, মুনাফা, তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন ব্যাংকটির মূলধন ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বেসেল-৩-এর আওতায় টিয়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন বন্ড ইস্যুর পরবর্তী প্রক্রিয়া কতটা সফল হয় এবং সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেদিকেই নজর থাকবে বাজারসংশ্লিষ্টদের।