কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই রিমাল এলাকার আল-আসালা ভবনে হামলাটি চালানো হয়। ছবি: আল-জাজিরা
পশ্চিম গাজা সিটির একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের সেবাকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদক হানি আল-শায়ের খান ইউনিস থেকে জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই রিমাল এলাকার আল-আসালা ভবনে হামলাটি চালানো হয়।
আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নারী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন বয়স্ক খ্রিষ্টান নারী ও তাঁর মেয়ে ছিলেন।
আহত ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রিমাল গাজা সিটির অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। সেখানে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন।
আল-শায়ের জানান, মাঝরাতে যখন হামলা চালানো হয়, তখন ভবনের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিমানগুলোর শব্দ ক্রমেই জোরালো হতে শুনতে পাই। এরপর পরপর তিনটি হামলা চালানো হয়। এতে অ্যাপার্টমেন্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা মানুষগুলো নিহত হন।’
হামলাটি লক্ষ্যবস্তু করা অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর দিয়ে ঢুকে নিচের তলাগুলোতেও আঘাত হানে। এতে বহুতল ভবনটির বিভিন্ন অংশে আরও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়।
ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হওয়ার আগে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে।
আল-শায়ের ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদক আরও জানান, নিখোঁজ মানুষ ও মরদেহের সন্ধানে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তখনো ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। এ সময় ইসরায়েলি ড্রোনগুলো ওই এলাকার আকাশে উড়ছিল এবং পুরো গাজা উপত্যকার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানগুলো নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
এ দিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, খান ইউনিসের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণে আবাসিক এলাকা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবু লক্ষ্য করে ভারী গুলিবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ থেকেও খান ইউনিসের উপকূলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গাজা সিটির পূর্বে আল-তুফাহ এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে থাকা ঘরবাড়ি ও ভবন লক্ষ্য করে বড় ধরনের ধ্বংস অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
সূত্র আরও জানায়, আল-তুফাহ ও শুজাইয়া এলাকার পূর্বে খালি করা কিছু ভবনে অন্তত দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান, তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মধ্য গাজায় টানা গুলিবর্ষণের মধ্যে ডেইর আল-বালাহ ও আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলে কামানের গোলা বর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৫ হাজার ৫২ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সাথে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।