গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাশুড়ি মাহমুদা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে জামাই বিরাজ আলীকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিরাজ আলী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোগদহ পুলপাড়া গ্রামের ফইম উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী মাসুদুর রহমান বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্যা সাইফুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বিরাজ আলীর সঙ্গে একই উপজেলার চক শিবপুর গ্রামের দুদু মিয়া ও মাহমুদা বেগম দম্পতির মেয়ে দুলালী বেগমের বিয়ে হয়। মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনের কারণে ২০০৭ সালে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন দুলালী। তাঁর বাবা ছিলেন হতদরিদ্র দিনমজুর। সংসারের প্রয়োজনে তাঁর মা মাহমুদা বেগম গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। দুলালী বেগমও জীবিকার প্রয়োজনে গ্রামের একটি গৃহস্থের বাড়িতে কাজ নেন।
স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন বিরাজ আলী। তবে দুলালী বেগম এতে রাজি হননি। ২০০৭ সালের ১৪ মে রাতে কাজ শেষে মা মাহমুদা বেগম ও মেয়ে দুলালী বেগম একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোবিন্দগঞ্জের চক শিবপুর গ্রামের আলেক উদ্দিনের বাড়ির কাছে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিরাজ আলীসহ আরও দুই থেকে তিনজন তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় দুলালীকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
মাহমুদা বেগম এতে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিরাজ আলী তাঁর শাশুড়ির বুকে ও পাঁজরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের চিৎকার শুনে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত মাহমুদা বেগমকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় পরদিন ১৫ মে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
আদালতের জিআরও সুব্রত বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত বিরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।