পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জীবনবিমা খাতের কোম্পানি প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর শেয়ারদর গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি নিচে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে শেয়ারটি ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন দরের কাছাকাছি চলে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ বাজারতথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রগতি লাইফের শেয়ারদর ছিল ১৪০.৬০ টাকা। বিপরীতে গত ৫২ সপ্তাহে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ২৮৩.৯০ টাকা এবং সর্বনিম্ন নেমেছিল ১২৭.৩০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমান দর ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ থেকে প্রায় ৫০.৫ শতাংশ কম, আর সর্বনিম্নের চেয়ে মাত্র ১৩.৩০ টাকা বা প্রায় ১০.৫ শতাংশ ওপরে।
এক বছরে অর্ধেকের কাছাকাছি বাজারমূল্য হারিয়েছে
২৮৩.৯০ টাকা থেকে ১৪০.৬০ টাকায় নেমে আসার অর্থ হলো, এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যে বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনেছিলেন, তার বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। ধরা যাক, কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে ১০০টি প্রগতি লাইফের শেয়ার ছিল। ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ ২৮৩.৯০ টাকা দরে এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ২৮ হাজার ৩৯০ টাকা। বর্তমান ১৪০.৬০ টাকা দরে সেই একই ১০০ শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬০ টাকা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ দর থেকে হিসাব করলে ১০০ শেয়ারে বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ১৪ হাজার ৩৩০ টাকা। ১ হাজার শেয়ারের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা। তবে শেয়ার বিক্রি না করা পর্যন্ত এ ধরনের হিসাবকে কাগুজে বা অনাদায়ী ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
সর্বনিম্ন দরের খুব কাছেই বর্তমান শেয়ার
প্রগতি লাইফের বর্তমান অবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্নের সঙ্গে বর্তমান দরের ব্যবধান খুব বেশি নয়। ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন ১২৭.৩০ টাকা থেকে ১৪০.৬০ টাকা মাত্র ১৩.৩০ টাকা বেশি। শতাংশের হিসাবে ব্যবধান প্রায় ১০.৫ শতাংশ। ফলে শেয়ারটির ওপর বিক্রিচাপ অব্যাহত থাকলে ১২৭.৩০ টাকার সর্বনিম্ন আবারও বাজারে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ২০২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে।
বিজনেস আই/