শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু শেয়ারদর নয়, কোম্পানির মুনাফা, শেয়ারপ্রতি আয় (EPS), নিট সম্পদমূল্য (NAV), লভ্যাংশ প্রদানের ধারাবাহিকতা, নগদ প্রবাহ এবং আর্থিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব সূচকের কয়েকটি বিবেচনায় বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজরে আসতে পারে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের আর্থিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ও ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির ঋণ ও আমানত পোর্টফোলিওতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে আইপিডিসি-এর মৌলভিত্তি কতটা আকর্ষণীয়—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে আইপিডিসি-এর শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) হয়েছে ০.৪৮ টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ০.৩৫ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রথম ছয় মাসের ইপিএস প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। শুধু এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে EPS হয়েছে ০.৩৩ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.২৭ টাকা।
প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ২০.৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের প্রায় ১৫ কোটি টাকার তুলনায় ৩৭.৬ শতাংশ বেশি।
৩০ জুন ২০২৬ শেষে আইপি ডিসি-এর এনএভি বা নিট সম্পদমূল্য প্রতি শেয়ার ১৭.০১ টাকা দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে এ মূল্য ছিল ১৭.০০ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে এন এভি সামান্য বেড়েছে। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভি ছিল ১৬.০১ টাকা।
আইপিডিসি গত পাঁচ বছরে নিয়মিত লভ্যাংশ দিয়েছে। তবে নগদ লভ্যাংশের হার আগের তুলনায় কমেছে।
| অর্থবছর | নগদ লভ্যাংশ | বোনাস লভ্যাংশ |
|---|---|---|
| ২০২১ | ১২% | — |
| ২০২২ | ১০% | — |
| ২০২৩ | ৫% | ৫% |
| ২০২৪ | ৫% | ৫% |
| ২০২৫ | ৫% | ৫% |
২০২৫ সালের জন্য কোম্পানি ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক/বোনাস লভ্যাংশ, অর্থাৎ মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
অর্থাৎ পাঁচ বছরে ipdc-এর লভ্যাংশ প্রদানের ধারাবাহিকতা থাকলেও নগদ লভ্যাংশ ১২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশে নেমেছে। ফলে যারা মূলত উচ্চ নগদ লভ্যাংশের জন্য শেয়ার কিনতে চান, তাদের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।
২০২৫ সালে আইপিডিসি-এর নিট মুনাফা প্রায় ৪৫.৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫.৩৯ শতাংশ বেশি। একই বছরে ইপিএস বেড়ে ১.১১ টাকা হয়েছে।
কোম্পানির মোট সুদ আয়ও প্রায় ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ৯৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছায়। পাশাপাশি বিনিয়োগ আয় প্রায় ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৩২.৪ কোটি টাকা হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় বিনিয়োগকারীদের খেয়াল রাখতে হবে—মুনাফা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে।
৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আইপিডিসি-এর ঋণ, অগ্রিম ও লিজ পোর্টফোলিও ছিল প্রায় ৭,৪১৭ কোটি টাকা। একই সময়ে আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৭১৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় আমানত প্রায় ৭.৯ শতাংশ বেড়েছে।
কোম্পানির নিজস্ব বিনিয়োগকারী তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ছিল প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা এবং ঋণ পোর্টফোলিও ছিল ৭৪২ কোটি টাকার বেশি নয়, বরং প্রায় ৭৪.২ বিলিয়ন টাকা বা ৭,৪২০ কোটি টাকার কাছাকাছি। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি AAA ক্রেডিট রেটিং ধরে রেখেছে।
হ্যাঁ, AAA রেটিং কোম্পানির ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা সম্পর্কে ইতিবাচক সংকেত দেয়। CSE-এর তথ্য অনুযায়ী, IPDC-এর দীর্ঘমেয়াদি ক্রেডিট রেটিং AAA এবং স্বল্পমেয়াদি রেটিং ST-1, যার মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত।
এটি বিশেষ করে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় অর্থ সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আইপিডিসি-এর শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS) হয়েছে ১২.০২ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮.১২ টাকা। অর্থাৎ ব্যবসা থেকে নগদ অর্থপ্রবাহের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা গেছে।
এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। কারণ শুধু হিসাবের মুনাফা নয়, ব্যবসা থেকে প্রকৃত নগদ প্রবাহও কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।