ছয় বছর আগে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে থেকেও শিরোপা হাতছাড়া করেছিলেন আলেক্সান্ডার জভেরেভ। সেই আক্ষেপ এবার ঘুচেছে। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬(২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেন জিতলেন জার্মান তারকা। চলতি মৌসুমে রোলাঁ গারোঁর পর এটি তাঁর দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা।
২০২০ সালের ফাইনালে ডমিনিক থিয়েমের বিপক্ষে প্রথম দুই সেট জিতেও শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়েছিলেন জভেরেভ। সেই হারের স্মৃতি দীর্ঘদিন তাঁর ক্যারিয়ারে বড় আক্ষেপ হয়ে ছিল। এবার নিউইয়র্কে সেই একই মঞ্চে অবশ্য ভুল করেননি। শেলটনের শক্ত প্রতিরোধ সামলে চার সেটে ম্যাচ জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন জভেরেভ।
শিরোপা জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ করে জভেরেভ বলেন, ‘কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছি, কষ্ট সহ্য করেছি, যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা দেখেছেন। আমার মনে হয় ২০২৬ হলো আগের সব বছরের পরিশ্রমের ফল।’
ফাইনালে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল শীর্ষ বাছাই জভেরেভের হাতে। প্রথম সেটে শেলটনের সার্ভিস ব্রেক করে এগিয়ে যান তিনি। দ্বিতীয় সেটে টাইব্রেকেও দাপট দেখিয়ে ম্যাচে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন জার্মান তারকা।
তৃতীয় সেটে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান শেলটন। বেসলাইন থেকে একের পর এক শক্তিশালী শটে জভেরেভকে চাপে ফেলে সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন তিনি। কিন্তু চতুর্থ সেটে আবারও নিয়ন্ত্রণ নেন জভেরেভ। শুরুতেই ব্রেক আদায় করে সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখেন এবং নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম।
স্বাগতিক দর্শকদের বড় অংশই চেয়েছিল শেলটনকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে। ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর কোনো আমেরিকান পুরুষের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের অপেক্ষাও তাই ফাইনালের আবহে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল। তবে শেলটন নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে প্রত্যাশিত সেরা খেলাটা খেলতে পারেননি।
দর্শকদের সমর্থন যে শেলটনের দিকেই ছিল, সেটিও স্বীকার করেছেন জভেরেভ। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ ৯৯.৯ শতাংশ মানুষই বেনের জয় চেয়েছিল। তাই আমি সত্যিই দুঃখিত। যদিও আমি জানতাম দর্শকেরা আমার বিপক্ষে ছিল, তারা সব সময়ই অবিশ্বাস্যভাবে ন্যায্য আচরণ করেছে। আর খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সেটার প্রশংসা করি।’