কল-কারখানাগুলোয় ‘আগের মত’ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এসেছে বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক। সংকট সুরাহা মঙ্গলবার রাত থেকেই হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফজলুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগামীকাল রাত থেকেই ইনশাআল্লাহ আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, গ্যাস-বিদ্যুতের ওই অবস্থায় ফিরে যেতে পারব। এইটা আমাদের মনে হয় যে আজকের এই বৈঠকের সবচাইতে বড় প্রাপ্তি, সবচাইতে বড় স্বস্তির খবর।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন; সেখানে এ আশ্বাস মেলে বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) ফজলুল হক।
তবে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তার উত্তর মেলেনি। এ নিয়ে ফজলুল হককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগস্ট মাসে যে সংকট ঘনীভূত হয়েছে, তার আগের অবস্থায়।
সংকট কাটিয়ে দেশে গ্যাসের সরবরাহ ‘কয়েকদিনের মধ্যে’ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে কদিন আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও। তিনি বলেছিলেন, সরকারের উদ্যোগ এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানি ব্যবস্থার ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরবে।
ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমেছে বেশ কিছুদিন ধরে। ফলে জনজীবনে নেমেছে দুর্ভোগ। বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাসা-বাড়ি কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি। চাপ বেড়েছে খাবার হোটেলগুলোতেও। তবে লাইনের গ্যাস না পাওয়া অনেক হোটেল হয়ে পড়েছে খাবার শূন্য। গ্যাস সরবরাহ সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই সমাধান আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।