এক বছরের বিরতি নিয়ে বিপিএলকে আরও বেশি গোছালো ও আকর্ষণীয় করতে এবার বড়সড় এক পরিবর্তনের পথে হাঁটল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন ও আঞ্চলিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের নাম বদলে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নামের এই টুর্নামেন্ট।
কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভেন্যুগুলোতে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোর্ড, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের পুরো কাঠামোকেই বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইংলিশ কাউন্টি ক্লাবগুলো যেভাবে নিজেদের পরিচালনা ও মালিকানার কাঠামো দাঁড় করায়, ঠিক সেই সংস্কৃতির অনুকরণেই সাজানো হচ্ছে এই নতুন টুর্নামেন্ট। এতে শুধু স্থানীয় খেলোয়াড় ও তরুণরাই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ববোধও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
নতুন এই টুর্নামেন্টের নানা দিক তুলে ধরে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে বিসিবির পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট যেটা হচ্ছে এটা অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক কিছু বদলে যাবে। খেলোয়াড়, ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক যারা থাকবে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়বে।’
দেশের ক্রিকেটের পরিধি জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে নান্নু আরও যোগ করে বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশব্যাপী খেলা হবে, অনেকগুলো ভেন্যুতে খেলা হবে, অনেক কিছুরই উন্নতি হবে। দেখবেন যে আমাদের অন্যান্য জেলার খেলোয়াড়রা একটু উৎসাহিত হবে। যারা তরুণ খেলোয়াড় আছে তারও অনুপ্রাণিত হবে। আমি আশা করি এই টুর্নামেন্টটা হলে খেলোয়াড়রা যথেষ্ট উপকৃত হবে।’
কাউন্টি সিস্টেমের আদলে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনা নিয়ে বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘এটা হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা উন্নতি হবে। কাউন্টি দলগুলো যেভাবে ওউন করে, যেভাবে চালায়, ঠিক সেই আঙ্গিকে একটা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আমার মনে হয় এখান থেকে খেলোয়াড়রা যথেষ্ট উপকৃত হবে, আঞ্চলিক অবকাঠামোগুলো উপকৃত হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি যারা আসবে তাদেরও দায়িত্ব অনেক বেশি থাকবে।’
টুর্নামেন্টটি কবে নাগাদ মাঠে গড়াবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও, বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ খুব দ্রুতই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও রূপরেখা প্রকাশ করবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।