নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৩৬ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সহায়তার আওতায় বন্যাকবলিত ১০ হাজার পরিবারকে জরুরি খাদ্যসহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করা হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, এই কঠিন সময়ে ওয়াশিংটন নেপালের জনগণের পাশে রয়েছে। সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার পরিবারকে টানা তিন মাস পর্যন্ত জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, নেপাল ও চীনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নাগরিকদের নিরাপত্তায় নেপাল ও চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
নেপালে হিমবাহ ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
নেপালি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী এবং ১৬টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে আকাশপথও ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন করে নদীর পানি বাড়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
নেপালে চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতাও রয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকারী দল ও বিশেষায়িত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাবে। দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
হিমবাহ ধস ও এর পরবর্তী আকস্মিক বন্যায় নেপালের বহু সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহায়তা ঘোষণায় নেপালের জরুরি খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দুর্গত এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় আরও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে