ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তোলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক নারী কর্মীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হাজির, বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার করতে তাকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ না করলে ওই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার পাশাপাশি অন্তত ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ডিএসইর জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর ও অ্যাডমিন) হাসান তারেক চৌধুরী এবং জেনারেল ম্যানেজার ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের প্রধান তাজুল ইসলামের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর এইচ খান নোটিশটি পাঠান। নোটিশটি ডিএসইর সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়াম আক্তারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১ আগস্ট ডিবিসি ২৪/৭ নিউজের একটি প্রতিবেদনে অংশ নিয়ে মারিয়াম আক্তার ডিএসইর দুই কর্মকর্তার নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুতর ও মানহানিকর বক্তব্য দেন। পরে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, মারিয়াম আক্তারের বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়-ডিএসইর দুই জেনারেল ম্যানেজার তাদের পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ডিএসইর পরিচালক সৈয়দা জাকেরিন বখত নাসিরকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তা নিজেদের পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেবেন এবং অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কয়েকজনকে আগেই বাছাই করে রাখা হয়েছে-এমন বক্তব্যও মারিয়াম আক্তার দিয়েছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, এসব বক্তব্য শুধু মতামত বা সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে ঘুষ, দুর্নীতি, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে। তবে হাসান তারেক চৌধুরী ও তাজুল ইসলাম এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় দুই কর্মকর্তার সুনাম, পেশাগত মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার আওতায় মানহানি হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, একই আইনের ৫০০ ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে।
মারিয়াম আক্তারের অভিযোগ সত্য হলে তার পক্ষে প্রমাণ দিতে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কথিত ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার তারিখ, সময় ও স্থান, কার কাছে টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ব্যাংকিং নথি, অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ওই অর্থ প্রদানের সঙ্গে দুই কর্মকর্তার নিয়োগের সম্পর্কের প্রমাণ এবং অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের জন্য আগে থেকে বাছাই করা ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণও দিতে বলা হয়েছে।
তবে প্রকৃত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনসম্মত সমালোচনা, অভিযোগ কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সদ্ভাবনাপূর্ণ অভিযোগ জানানোর বিষয়ে দুই কর্মকর্তার আপত্তি নেই বলেও নোটিশে বলা হয়েছে। তাদের আপত্তি মূলত আইনগত বা তথ্যগত ভিত্তি ছাড়া প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতি ও নিয়োগসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ প্রচারের বিরুদ্ধে।