স্টাম্প মাইকে ধরা পড়ল স্মিথ-লিটনের কথার লড়াই
লিটন ও স্মিথের কথোপকথনের সেই মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পথে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের কমতি ছিল না। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের একটি ছোট্ট ঘটনা যেন সেটিই আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। স্টাম্প মাইক্রোফোনে ধরা পড়েছে অজিদের তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথের সঙ্গে লিটন দাসের কথার লড়াই।
ঘটনাটি ঘটে তাইজুল ইসলামের এক বল ঘিরে। লেগ সাইড দিয়ে যাওয়া বলটি উইকেটরক্ষক লিটনের গ্লাভসে জমা পড়লে আউটের আবেদন করেন তিনি। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। বাংলাদেশ তখন রিভিউ নেবে কি না, সেটি নিয়ে ভাবছিল। এরপর বাংলাদেশ রিভিউ নেবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করলে স্মিথ নিজেই যেন তাঁদের উৎসাহ দিতে থাকেন।
স্টাম্প মাইকে শোনা যায় স্মিথের কণ্ঠ, ‘নিয়ে নাও। যাও, রিভিউ নাও। ব্যবহার করো। আরেকটা রিভিউ নষ্ট করো। যা খুশি করো।’
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ রিভিউ নেয়নি। তখনই স্মিথকে উদ্দেশ করে লিটনের সংক্ষিপ্ত বার্তা, ‘তুমি ব্যাট করো। শুধু ব্যাট করো।’
স্মিথ জবাব দেন, ‘আমি ব্যাট করছি।’
লিটন আবারও বলেন, ‘শুধু ব্যাট করো।’
এবার স্মিথ কিছুটা দৃঢ় সুরে বলেন, ‘না, আমি যা চাই তা-ই করব, আমি যা চাই তা করতে পারি।’
কথার লড়াইয়ে শেষ কথা স্মিথ বললেও মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পরই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ৪৪ রানে আউট হন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাঁর উইকেটের পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসও আর বেশিদূর এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।
লিটন-স্মিথের সেই কথোপকথনকে বাংলাদেশের নির্ভীক মানসিকতার উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন ফক্স ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ান। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশ লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। ছোট্ট একটা বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। আমার মনে হয়, স্টিভ স্মিথ একটু বাগ্যুদ্ধ করে খেলার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছিলেন।’
লিটন-স্মিথের কথোপকথনকে ডেভিড ওয়ার্নার ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘লিটন স্মিথের সঙ্গে ওই ছোট্ট কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার পর পুরো ইনিংসে তারা আর চুপ থাকেননি। এটা অবিশ্বাস্য। নিজেদের ওপর বিশ্বাসটা ছিল তাঁদের, ক্ষুধার্ত ছিল।’