পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিটি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের লভ্যাংশ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে পরিশোধিত মূলধন শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ব্যাংকটি মূলধন বৃদ্ধি করবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এই প্রস্তাবের আওতায় অনুমোদিত মূলধন ২,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ কোটি টাকা করা হবে, যা প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকবে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমতির জন্য একটি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করেছে ব্যাংকটি।
ব্যাংকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আগামী ৪ অক্টোবর বিকেল ৩টায় ইজিএম করবে।ভোটাধিকারপ্রাপ্ত শেয়ারহোল্ডারদের তালিকা নির্ধারণের জন্য ‘রেকর্ড ডেট’ ৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূলধন সংক্রান্ত নতুন শর্তাবলি পূরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিটি ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২৩ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক নির্দেশনায় জানিয়েছে যে, যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২,০০০ কোটি টাকার কম, তারা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে আর কোনো নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।
সিটি ব্যাংকের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১,৭৪৯.৪০ কোটি টাকা; ফলে নির্ধারিত সীমা স্পর্শ করতে ব্যাংকটির আরও ২৫০ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। ব্যাংকটি ২০২৫ সালের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ প্রদান করেছে।অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাংকটি আগামী বছরগুলোতে অতিরিক্ত বোনাস বা রাইটস শেয়ার ইস্যু করার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমার ঊর্ধ্বে পরিশোধিত মূলধন উন্নীত করার আইনি সুযোগ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার লক্ষ্য হলো ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা। এছাড়া, পর্যাপ্ত মূলধনসম্পন্ন ব্যাংকগুলোর জন্যও ঘোষিত লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ অর্থ হিসেবে প্রদানের বিষয়টি এই নীতিমালার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
সিটি ব্যাংকের পর্ষদ সম্প্রসারণের প্রস্তাব
সিটি ব্যাংক তাদের ‘নন-ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বা অন-স্বাধীন পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা আট থেকে বাড়িয়ে দশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। ব্যাংকের সংঘ-স্মারক (Memorandum of Association) ও সংঘ-বিধিমালা (Articles of Association)-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধনের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন চাওয়া হবে।
বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদে সাতজন শেয়ারহোল্ডার-পরিচালক রয়েছেন। এর মধ্যে পারটেক্স গ্রুপের দখলে রয়েছে তিনটি আসন এবং আনোয়ার গ্রুপ ও আজিজ গ্রুপের দখলে রয়েছে একটি করে আসন। এছাড়া পর্ষদে একজন স্বতন্ত্র ব্যবসায়ী এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন’ (আইএফসি)-এর একজন প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বিজনেস আই/