পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন আজ সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে অনিদৃষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট-২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানিগুলোকে নন-ভাইবল (অকারযকর) ঘোষণা করেছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পরযন্ত কোম্পানিগুলোর লেনদেন বন্ধ থাকবে।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিগুলো হচ্ছে-ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস, ফ্যাস ফিন্যান্স ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ ও বিনিয়োগ, তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধে অক্ষমতা—এসব বিষয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণার অন্যতম কারণ।
কোম্পানিগুলোর বর্তমান অবস্থা
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং
সোমবার সর্বশেষ কোম্পানিটি ২ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে। বেলা ১০টা ৪০ মিনিট পরযন্ত কোম্পানিটির দর ২০ পয়সা বা ৮.৭০ শতাংশ কমেছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয় না। কোম্পানিটি ৪ হাজার ৯৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে।
ফ্যাস ফিন্যান্স
আজ ফ্যাস ফিন্যান্সের শেয়ার দর ২০ পয়সা বা ৭.৪১ শতাংশ কমেছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বশেষ ২ টাকা ৫০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয় না। কোম্পানিটি ২ হাজার ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে।
ফারইস্ট ফাইন্যান্স
আলোচ্য সময়ে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দর ২০ পয়ষা বা ৮.৭০ শতাংশ কমেছে। আজ কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ২ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয় না। কোম্পানিটি ৯৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে।
রেজল্যুশন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও রেজল্যুশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আমানতকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিজনেস আই/