পঞ্চম বছরে পা দেওয়া যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাত ও গোলাগুলি আরও তীব্র হওয়ায় উভয় পক্ষে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের বরাতে জানা গেছে যে হামলায় উভয় দেশেই ১১ জন করে মোট ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোনড্রাতিয়েভ জানান যে গেল সোমবার আরখিপো-ওসিপোভকা রিসোর্ট গ্রামে ড্রোন ধ্বসংসাবশেষ পড়ে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত ও প্রায় ৪০ জন আহত হন।
এ ছাড়া ক্রিমিয়ার মস্কো মনোনীত প্রধান সের্গেই আকসিওনভ চারজনের মৃত্যু এবং বেলগোরোডের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেক্সান্ডার শুভায়েভ চারজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ও ১৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দ্রেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ জেলার একটি পেট্রোল পাম্পে রুশ হামলায় উদ্ধারকর্মী ও তার আট বছরের ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন বলে সেখানকার গভর্নর ওলেক্সান্দার হানঝা নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি জাপোরিজিয়া অঞ্চলে রাতভর এক হামলায় দুই শিশুসহ আরও আটজন নিহত হয়েছেন। বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ উভয় পক্ষ অস্বীকার করলেও সম্প্রতি মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের বিলি কলোডিয়াজ ও উসপেনিভকা এলাকা দুটি দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক অড্রে ম্যাকআলপাইন জানান যে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত উপাদান বিক্রি করায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে ট্রাম্প ইউক্রেনকে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা