হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের দেওয়া যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, প্রস্তাবটি তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান করে না। বরং ইরান নিজস্ব একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে এবং সেটি গ্রহণ না করলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শাফাক নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে ওমানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, তেহরান ওমানকে যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে একমুখী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ইরানের জলসীমা দিয়ে হবে। আর বিপরীতমুখী জাহাজ চলাচলের পথের একটি অংশও ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।
গারিবাবাদি বলেন, ‘ওমান যদি এ প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তাহলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথকে ইরান কখনোই বৈধ নৌপথ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য ওমান একটি প্রস্তাব দিয়েছে। মালাক্কা প্রণালির ব্যবস্থাপনা থেকে অনুপ্রাণিত ওই প্রস্তাবে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে যৌথ তদারকির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহারকারী দেশগুলোর স্বেচ্ছা অর্থায়নের ব্যবস্থারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে ইরানের ওপর চালানো দুই সপ্তাহের মার্কিন বোমা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত নিজেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ করে দেয়।