শেয়ারবাজারে নজির গড়ে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বাজারমূল্য (মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন) প্রথমবারের মতো সাময়িকভাবে ৫ ট্রিলিয়ন (পাঁচ লাখ কোটি) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। চিপ প্রস্তুতকারক এনভিডিয়ার পর ইতিহাসের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই মাইলফলক অর্জন করল অ্যাপল।
গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের একপর্যায়ে অ্যাপলের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ৩৪২ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছায়, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৫ দশমিক ০৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
তবে দিন শেষে শেয়ারের দাম কিছুটা কমে ৩৩৯ দশমিক ৩৩ ডলারে স্থির হয়, যা আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। লেনদেন শেষে অ্যাপলের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৯৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
চলতি মাসের শুরুর দিকে এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করে আইফোন প্রস্তুতকারক এই কোম্পানিটি। ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা স্পর্শ করেছিল এনভিডিয়া। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১৯৭ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়ায়, যার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য বর্তমানে ৪ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
এআই প্রতিযোগিতায় না থেকেও কেন সাফল্য?
টেক বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি যেমন মেটা, অ্যালফাবেট ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল অর্থ ঢালছে, তখন অ্যাপল ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। অবকাঠামোগত বিশাল ব্যয় থেকে দূরে থাকার এই কৌশলই অ্যাপলকে বাজারে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
যেমন, নিজস্ব ডাটা সেন্টার ও চিপ তৈরিতে বিপুল পরিমাণ ক্যাশ ফ্লো ব্যয় করার পরিবর্তে অ্যাপল তাদের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র আধুনিকায়নে সার্চ জায়ান্ট গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এর ফলে বিশাল অবকাঠামোগত খরচ ও ঋণের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে, যা অন্যান্য ‘ম্যাগনিফিসেন্ট ৭’ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশ ইতিবাচক।
এ দিকে সম্প্রতি ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের দাম বাড়ালেও আইফোনের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে অ্যাপল। বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় গ্রাহকেরা বিপুল সংখ্যায় আইফোন কেনায় প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এ ছাড়া, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লারনা-র সঙ্গে যৌথভাবে একটি ডিভাইস লিজ প্রোগ্রাম চালু করেছে অ্যাপল। এই ব্যবস্থার অধীনে মাসে ১৭ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে আইফোন, ১১ দশমিক ৯৯ ডলারে অ্যাপল ওয়াচ বা আইপ্যাড এবং ২৪ দশমিক ৯৯ ডলারে ম্যাক ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন মার্কিন গ্রাহকেরা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টার-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেন, ‘অ্যাপল অবকাঠামো বিনিয়োগের চেয়ে গ্রাহক অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে এআই ব্যয়ের প্রতিযোগিতা এড়িয়ে গেছে। আর নতুন লিজ সুবিধাটি তাদের বেশ চতুর একটি কৌশল। এটি সরাসরি আইফোনের দাম না কমালেও, এককালীন বড় অঙ্কের খরচের চাপ কমিয়ে একটি সহজ মাসিক কিস্তিতে তা রূপান্তর করেছে, যা গ্রাহকদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করবে।’
আগামী বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের পর চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা রয়েছে অ্যাপলের। বিশ্লেষকদের ধারণা, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক রাজস্ব অন্তত ১৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।