‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশন জানিয়েছে, এটি এখনো একটি খসড়া বিধিমালা। অংশীজনদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি বিবেচনায় নিয়েই প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।
বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া সংশোধনী সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করে জাতীয় দৈনিক, পোর্টাল ও অন্যান্য গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের ওয়েবসাইটেও খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খসড়া সংশোধনী প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের কাছে মতামত, পরামর্শ অথবা আপত্তি লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএসইসি আরও উল্লেখ করেছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর বিধান অনুযায়ী কোনো বিধিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে অংশীজনদের মতামত নেওয়া একটি স্বাভাবিক ও বাধ্যতামূলক আইনগত প্রক্রিয়া। সে কারণেই খসড়া বিধিমালা জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাপ্ত মতামত, পরামর্শ ও আপত্তিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধনের পরই বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে সরকারি গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর হবে।
বিএসইসি স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে প্রকাশিত নথিটি কেবল একটি খসড়া, এটি কোনো চূড়ান্ত সংশোধিত বিধিমালা নয়। তাই খসড়া বিধিমালা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনুমান, অপব্যাখ্যা কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি বা উদ্বেগ সৃষ্টির কোনো কারণ নেই বলে কমিশন মনে করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কমিশন সবসময় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। প্রস্তাবিত সংশোধনের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান বিধিমালাকে আরও সহজ, বাস্তবসম্মত, ব্যবহারবান্ধব ও কার্যকর করা। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করে বিধিমালাটি এমনভাবে চূড়ান্ত করা হবে, যাতে তা বিনিয়োগকারীবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
সবশেষে বিএসইসি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে গঠনমূলক মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও খসড়া সংশোধনী এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি বা উদ্বেগের সৃষ্টি না হয়।