আট মামলায় জামিন পাওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে নতুন এক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর হয়েছে, ফলে আটকে গেছে তার মুক্তি।
পুলিশের আবেদনে বুধবার তাকে বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, খায়রুল হককে এদিন আদালতে হাজির করা হয়নি। ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে এ মামলায় খায়রুল হকের জামিনের জন্য আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এক মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখায়। আজ নবম মামলায় গ্রেফতার দেখাল। কবে মুক্তি মিলবে জানি না। আমরা অপেক্ষায় আছি সেঞ্চুরি পূরণের।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
শুরুতে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই তাকে নতুন নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ফলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির মুক্তি বার বার আটকে যায় বলে তার আইনজীবীদের অভিযোগ।
সবশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ।
কিন্তু দুই দিনের মাথায় বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও মামলার মূল নথি না থাকায় শুনানি পিছিয়ে বুধবার দিন রাখা হয়। আর বুধবার শুনানি শেষে গ্রেফতার দেখানোর আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়।
এ মামলার অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়।
এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। সেই উজ্জ্বল মিয়া ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এ মামলা করেন।