জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পলাতক হাবিবর রহমান ছাড়াও সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও পলাতক আসামি, পুলিশের সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও গ্রেফতার একমাত্র আসামি সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আতে গত ১৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।
এ মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।