পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি ২০২৫ অর্থবছরে সফল পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের মাধ্যমে আগের বছরের বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে পুনরায় মুনাফায় ফিরেছে।
২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ৭৯৩ দশমিক ৭৮ কোটি টাকার সমন্বিত নিট লোকসানের মুখে পড়েছিল।
কোম্পানির এই ইতিবাচক আর্থিক পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কৌশলগত আর্থিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তার অধীন খেলাপি ঋণ ও লিজ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ। খেলাপি হিসাব থেকে আদায় বৃদ্ধি ও পুনঃতফসিলীকরণের ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রভিশন সমন্বয় হয়েছে, যা কোম্পানির পুনরুদ্ধার ও ব্যালান্স শিট পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।
২০২৫ সালে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা, যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল ঋণাত্মক ৪১ টাকা ৬১ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) উন্নীত হয়ে ঋণাত্মক ২৯ টাকা ০৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ঋণাত্মক ৩০ টাকা ০৫ পয়সা। এর মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসা এবং মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির প্রভিশন কভারেজ রেশিও ছিল ৪৯৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা সম্ভাব্য ঋণঝুঁকির বিপরীতে অত্যন্ত শক্তিশালী সুরক্ষা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে এটি কোম্পানির সতর্ক, রক্ষণশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতির প্রতিফলন বহন করে।
দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মূলধন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ অর্থবছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। অর্জিত মুনাফা মূলধন ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, আর্থিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা, পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং টেকসই ব্যবসায়িক সক্ষমতা জোরদারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, চলমান পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, কৌশলগত পুনর্গঠন উদ্যোগ, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সহায়ক নিয়ন্ত্রক নীতিমালার সমন্বয়ে ভবিষ্যতে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ও বিনিয়োগ সমুন্নত রাখতে প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।