সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন। এর ফলে জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ৫ মামলায় তার জামিন কার্যকর থাকল।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। শুনানি শেষে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, জামিন বহাল থাকলেও খায়রুল হক এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না। কারণ, ওই পাঁচটি মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেগুলোতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় আরও দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ৪ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। নিম্ন আদালতে এসব মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ৮ ও ১১ মার্চ পৃথক শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাকে পাঁচটি মামলায় জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও আপিল বিভাগ আজ তা খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর তিনি তিনবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার এই মামলাগুলো।