শ্রীলঙ্কায় কয়লা আমদানি নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরই তিনি সরে দাঁড়ান বলে জানিয়েছে সরকার।
গত সপ্তাহে সরকারি এক অডিটে দেখা যায়, নিম্নমানের কয়লার কারণে দেশের সবচেয়ে বড় ৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হয়নি।
শিবির রাজনীতিতে নোংরামির চর্চা শুরু করেছে: কাদেরশিবির রাজনীতিতে নোংরামির চর্চা শুরু করেছে: কাদের
এই ঘাটতি পূরণ করতে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থাকে বেশি খরচে ডিজেল ব্যবহার করতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় এই ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। তার কার্যালয় জানায়, ‘কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে একটি বিশেষ প্রেসিডেনশিয়াল কমিশন গঠন করা হয়েছে।’
সরকার জানায়, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কুমারা জয়াকোডি পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, অর্থাৎ সচিবও পদ ছাড়েন।
এই কয়লা কেনাকাটার ঘটনা প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে হওয়া সব কয়লা ক্রয় তদন্তের আওতায় আনা হবে।
জাতীয় অডিট অফিস বলেছে, নির্ধারিত মানের তুলনায় কম তাপ উৎপাদনক্ষম কয়লা সরবরাহ করায় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীকে ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন রুপি জরিমানা করা উচিত। এই মানটি কয়লা পোড়ানোর সময় উৎপন্ন শক্তি দিয়ে নির্ধারণ করা হয়।
অডিট অফিস আরও জানায়, নিম্নমানের কয়লার কারণে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থার সরাসরি ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন রুপি। জরিমানার মাধ্যমে এই ক্ষতির বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।