ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ন

রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ১১ পরিচালক ও সিইওকে জরিমানা

ক্রেডিট রেটিং সংক্রান্ত বিধিমালা যথাযথভাবে পরিপালন না করায় রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীদের বড় অংকের জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত মার্চ মাসে এই দণ্ডাদেশ কার্যকর করেছে বিএসইসি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সর্বশেষ মাসিক এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, রেটিং বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানের ১১ জন পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে বিএসইসি বাজার সংশ্লিষ্টদের কাছে কড়া বার্তা পৌঁছে দিল।

দণ্ডিত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন— মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, আলী আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, কাজী মনিরুজ্জামান, কে এম ফারুক, আবু হেনা, শাওন আহমেদ, ওবায়দুল হক, মোস্তফা কামরুস সোবহান, ফজলুতুন নেসা এবং সিইও ফাওজিয়া কামরুন তানিয়া। অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রয়াত হয়েছেন।

বিএসইসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোম্পানিটি ক্রেডিট রেটিং প্রক্রিয়া এবং ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিজ) রুলস, ২০২২’ লঙ্ঘনের মতো অনিয়মে জড়িত ছিল। মূলত ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (সিআরআইএসএল) সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও সময়সীমা নির্ধারণে অসংগতি খুঁজে পায় কমিশন।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোর সার্ভেইল্যান্স রেটিং করার জন্য সিআরআইএসএল-এর সঙ্গে বীমা কোম্পানিটির একটি চুক্তি ছিল। ২০২০ সাল পর্যন্ত রেটিং সম্পন্ন হলেও ২০২২ সালের নভেম্বরে আগের প্রতিবেদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই তারা ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে, যা বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী।

বিধি অনুযায়ী, একবার রেটিং চুক্তি সম্পাদিত হলে তা প্রাথমিক রেটিং এবং পরবর্তী টানা তিনটি সার্ভেইল্যান্স রেটিং পর্যন্ত বহাল থাকতে হবে। বিএসইসির পূর্বানুমতি বা আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ছাড়া মাঝপথে নতুন কোনো রেটিং এজেন্সিকে নিযুক্ত করা সিকিউরিটিজ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

শুনানি চলাকালীন রূপালী ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, আগের এজেন্সির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়েছিল এবং তারা সময়মতো প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন চুক্তি করা হয়েছে। তবে তাদের এই যুক্তি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

 

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ