ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার ৮ এপ্রিল ইসরাইল লেবাননজুড়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১,১৬৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৮২ বলা হয়েছে, তবে সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুসারে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি।
বৈরুতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাসহ দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং সিডন, তায়ারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এ হামলা চালানো হয়। ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা ১০ মিনিটের মধ্যে ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে লেবাননে তাদের সবচেয়ে বড় সমন্বিত অভিযান।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এ হামলাকে ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে বেসামরিক নাগরিকদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে। বৈরুতের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে এবং হাসপাতালগুলো আহতদের চাপে বিপর্যস্ত। লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, হতাহতদের উদ্ধারে শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ মার্কিন কর্মকর্তারাও একই অবস্থান নিয়েছেন।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনর্বিবেচনা করবে। ইরান হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে, যা যুদ্ধবিরতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
জাতিসংঘ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
গত ২ মার্চ থেকে চলমান এ সংঘাতে লেবাননে এখন পর্যন্ত ১,৫০০ থেকে ১,৭৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।