বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীনে আইসিটি বিভাগের বাস্তবায়িত ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিইআইইডি) প্রকল্পের স্টার্টআপ অ্যান্ড স্কেলআপ প্রোগ্রাম (এসএসপি)-এর আওতায় আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ডেমো ডে ২০২৬’ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
১,০৯১টি স্টার্টআপের অংশগ্রহণের মধ্যে ৩০২টি স্কেলআপে উন্নীত হওয়া এবং ১৩৪টি স্টার্টআপের কেপিআই অর্জনের মাধ্যমে প্রোগ্রামটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রতিফলিত হয়েছে। রাজস্ব, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ সক্ষমতায়ও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের ক্রমবর্ধমান শক্তির ইঙ্গিত দেয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, বিশেষ অতিথী হিসেবে ছিলেন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নুরুল হাই এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।
সমাপনী বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, “এই তিনদিন ব্যাপী ‘ন্যাশনাল ডেমো ডে ২০২৬’ শুধু একটি ইভেন্ট নয়, বরং বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে একটি শক্তিশালী, সংযুক্ত এবং বিনিয়োগযোগ্য প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক দিকনির্দেশনা, মেন্টরশিপ এবং বিনিয়োগ সংযোগের মাধ্যমে আমাদের উদ্যোক্তারা শুধু দেশেই নয়, বৈশ্বিক পরিসরেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মিলনায়তনে আয়োজিত এই তিনদিনব্যাপী প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী স্টার্টআপগুলো তাদের পণ্য, সেবা, ব্যবসায়িক মডেল এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ পায়। সেক্টরভিত্তিক পিচিং সেশনে বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৫০টির বেশি স্টার্টআপ বিনিয়োগকারী, ব্যাংক, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট সংস্থার সামনে তাদের ব্যবসায়িক ধারণা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা উপস্থাপন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অংশগ্রহণকারী স্টার্টআপগুলোর ফাউন্ডারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণা, ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং বাজার সম্প্রসারণের কৌশল সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা মনোযোগসহকারে শোনেন। পাশাপাশি তিনি স্টার্টআপগুলোর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নীতি সহায়তা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, তিনদিনব্যাপী প্রোডাক্ট এক্সপো এবং নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপিত হয়, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, অংশীদারিত্ব এবং বাজার সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
স্টার্টআপ অ্যান্ড স্কেলআপ প্রোগ্রামের আওতায় প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং বিনিয়োগ সংযোগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগটি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতকে একটি শক্তিশালী ও বিনিয়োগযোগ্য খাতে পরিণত করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।


















