ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ন

পেট্রল ও ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানির ওপর নতুন করে কর আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আর এ প্রণালি দিয়ে ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় এক আদেশে পেট্রলের আবগারি শুল্ক লিটারপ্রতি ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপি করেছে। একইভাবে ডিজেলের ওপর শুল্ক ১০ রুপি থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে কত রাজস্ব ক্ষতি হবে, তা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক কমানোর ফলে সরকারের আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন সামনে রয়েছে।

তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে তেল কোম্পানিগুলো প্রতি লিটার পেট্রলে প্রায় ২৪ রুপি এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ রুপি লোকসান দিচ্ছে। এই চাপ কমাতেই সরকার শুল্কে ছাড় দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এ সিদ্ধান্তে বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ১.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপি হতে পারে। তবে এতে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর ক্ষতি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে।

ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো খুচরা বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সব সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম সমন্বয় না করায় কখনো সরকার, আবার কখনো কোম্পানিগুলো বাড়তি চাপ বহন করে—ফলে ভোক্তারা কিছুটা সুরক্ষা পান।

এদিকে সরকার ডিজেল রপ্তানিতে লিটারপ্রতি ২১.৫ রুপি এবং বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে ২৯.৫ রুপি কর আরোপ করেছে। গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটি বিপুল পরিমাণ পেট্রল ও ডিজেল রপ্তানি করেছে, যেখানে বড় অংশের রপ্তানিকারক রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, পেট্রল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না। একই সঙ্গে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কম রাখার চেষ্টা করা হবে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ