ঢাকা, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন

যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে ৪০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য সামনে এসেছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাতের পর থেকে তেহরান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। এই হামলাগুলোকে মূলত চলমান সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে দেশটির দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলার বেশিরভাগই সফলভাবে ঠেকাতে পেরেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১৮০ জন মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। যদিও বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে, তবুও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন এই সংঘাতের দিকে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বনেতাদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইরান কেবল ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নেতানিয়াহুর ভাষায়, “এখনই সময় বিশ্বের অন্যান্য দেশকে এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার।” তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে কিছু দেশ এই পথে এগোতে শুরু করেছে, তবে আরও শক্ত অবস্থান প্রয়োজন।

ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—এই দুইয়ের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও আরও গভীরভাবে পড়তে পারে। তথ্যসূত্র : আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ