রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশবাসী। দীর্ঘ ৩৬ বছরের বিরতি কাটিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে একই সঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় যোগ হয়েছে এক নতুন ও অনন্য মাত্রা।
এবারের ঈদুল ফিতরের প্রধান এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই জামাতে দেশের প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং কূটনৈতিক কোরের প্রায় ৩৩০ বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জাতীয় ঈদগাহের মূল প্যান্ডেলের ভেতরে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতা থাকলেও আজ এর সংলগ্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ এই জামাতে শরিক হন। নারী মুসল্লিদের জন্য ঈদগাহে রাখা হয়েছিল সম্পূর্ণ পৃথক ও পর্দার চমৎকার ব্যবস্থা। এছাড়া জামাতে আগত মুসল্লিদের যে কোনো স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে দুটি বিশেষ মেডিকেল টিম।
নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো ঈদগাহ ময়দান ও এর চারপাশের এলাকাকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি উঁচু ওয়াচ টাওয়ার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। আগত প্রত্যেক মুসল্লিকে কঠোর তল্লাশি ও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় পার হয়ে ময়দানে প্রবেশ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসবের এই প্রধান জামাত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯-৯০ সালে কাজী জাফর আহমেদ শেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়েছিলেন। এরপর থেকে প্রায় ৩৬ বছর কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী এই ঈদগাহে নামাজ পড়েননি।