ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ন

ঈদের দিনও স্বস্তিতে নেই ইরানিরা, একাধিক শহরে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালেও স্বস্তি নেই ইরানে; বরং ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর জোরালো হামলায় রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক শহর ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে। শনিবার (২১ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোরে যখন মুসলিম উম্মাহ ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই তেহরান ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দফায় দফায় বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় তেহরান, শাহরাক-ই মহল্লাতি, শাহরাক-ই পারদিস এবং কারাজ এলাকায় ইসরায়েলি ও আমেরিকান যুদ্ধবিমান থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘খবরঅনলাইন’ ও আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’ নিশ্চিত করেছে, শনিবার ভোরে তেহরানের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী বিস্ফোরণ অনুভূত হয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকা পার্সিয়ান সার্ভিসের তথ্যমতে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় একবাতান জেলা এবং সিটি অলিম্পিক ভিলেজেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঈদের নামাজ আদায়
পশ্চিম তেহরানে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাজধানী ছাড়াও তেহরানের দক্ষিণে শাহর-ই রে, তাবরিজ এবং ইসফাহানেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এমনকি তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে মাজান্দারান প্রদেশের পার্বত্য এলাকা কেলারদাশতেও যুদ্ধবিমানের গর্জন ও বিস্ফোরণ শোনা গেছে। তবে ঈদের এই ভোরে হওয়া হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

কানায় কানায় পূর্ণ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান
এদিকে এক বিবৃতিতে তেহরান জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু অভিমুখে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ