ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ন

যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় নির্বাচন এবং সরকার গঠনের পরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিন্টো রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়েছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবার সেই ভবনেই উঠবেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতোমধ্যে তার বসবাসের জন্য যমুনাকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যমুনাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে অপচয় রোধ করার। তাই এর সংস্কারকাজে কোনো বাড়তি বা অপ্রয়োজনীয় খরচ করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনাকে তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এদিকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যমুনায় এখন সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস থাকতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যমুনা ছেড়ে দেন বলে জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই বাহুল্য খরচ পরিহার করতে চান। তাই আমরা কোনো ধরনের বাহুল্য খরচে যাইনি। ভেতরে শুধু রং করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবনটিকে জীবাণুমুক্ত করতে হাইজেনিক ওয়াশ করা হয়েছে। খুব অল্প বাজেটের মধ্যে সাশ্রয়ীভাবে আমরা কাজগুলো সম্পন্ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে গুলশানে নিজস্ব বাসায় থাকছেন। তিনি সেখান থেকে আবদুল গণি রোডের সচিবালয় ও তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান করেছেন ও আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় করার অভিপ্রায় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সে আলোকে দ্রুতই যমুনার সংস্কারকাজ শেষ। ৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর এই দুটি বাংলোয় এখন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা যমুনা থেকে চলে গেলে এই দুটি বাংলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এরপর গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলছে। এর ফলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর থাকার সুযোগ নেই। নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে সুপারিশ করতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত বছরের ৭ জুলাই উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করেছিল। ছয় সদস্যের এই কমিটির প্রধান ছিলেন একজন অতিরিক্ত সচিব। কমিটি রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে গত বছর ২০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটি প্রতিবেদনে বলে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। ঢাকার হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকাগুলো ‘মন্ত্রীপাড়া’ নামে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা ‘মন্ত্রীপাড়ায়’ থাকা শুরু করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বিএনপি। শপথের মধ্য দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। দায়িত্ব হস্তান্তরের পর মন্ত্রিপাড়ায় অবস্থিত বাংলো ছাড়তে শুরু করেন সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ