ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেন গভর্নর

শরীয়াহভিত্তিক দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক মিলিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আইটি ইন্টিগ্রেশনসহ একীভূতকরণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) গভর্নর কার্যালয়ে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক এবং তাদের সহযোগী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

গভর্নর বলেন, “ব্যাংক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা ছাড়া বিকল্প নেই।” তিনি ব্যাংকগুলোর আইটি ইন্টিগ্রেশন কেন দেরি হচ্ছে তা জানতে চাইলে কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলোর আলাদা ডেটা একত্রিত করতে সময় লাগছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, একীভূতকরণ চলমান থাকবে কিনা— এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। জবাবে গভর্নর জানান, সরকার ইতোমধ্যেই নতুন ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে। এছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে গ্রাহকদের জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। তাই কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে এবং একীভূতকরণ থেকে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।

এর আগে ৩ মার্চ গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে এমডি নিয়োগ শিগগির সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ঋণ আদায় জোরদার এবং বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন।

দীর্ঘদিন আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে প্রশাসক নিয়োগসহ সব কিছু একীভূত করার দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা, বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে প্রদান করা হবে। বর্তমানে পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছেন, যার মোট আমানত ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার ৭৭ শতাংশ খেলাপি।

একীভূতকরণের পর ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরু করেছে ২ লাখ টাকা ফেরতের ব্যবস্থা। বিশেষ স্কিমের আওতায় আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। দুই লাখ টাকার বেশি আমানতকারীরা প্রতি তিন মাস পর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় যেকোনও পরিমাণ অর্থ তুলতে পারবেন।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ