আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ‘রিং দ্যা বেল ফর জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসই, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি), সাস্টেইনেবল স্টক এক্সচেঞ্জেস, দ্য ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জেস, ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট এবং ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডেনমার্ক দূতাবাসের পক্ষ থেকে মিশনের উপ-প্রধান মি. অ্যান্ডার্স বি. কেলসেন অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার মিসেস ফারজানা লালারুখ৷ এবারের নারী দিবসের প্রতিপ্রাদ্য বিষয় ছিল “সফল নারী ও মেয়েদের জন্য অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন”।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হয়, তখন পরিবার শক্তিশালী হয়, সমাজ আরও স্থিতিশীল হয় এবং জাতি উন্নয়নের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যায়। তবে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের নারীত্বকেও সম্মানের সঙ্গে ধারণ করতে হবে।
ইউএন উইম্যান-এর ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেসেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা (Ms. Navanita Sinha, Deputy Country Representative, UN Women) বলেন, বাংলাদেশে নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৮ গুণ বেশি অবৈতনিক পরিচর্যা কাজ করে থাকেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে নারীর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত। গবেষণা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
নবনীতা সিনহা বলেন, লিঙ্গসমতায় বিনিয়োগ কেবল অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, এটি সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তব্য শেষে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে স্মরনীয় করে রাখতে ‘রিং দ্যা বেল ফর জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ডেনমার্ক দূতাবাস এবং মিশনের উপ-প্রধান মি. অ্যান্ডার্স বি. কেলসেন, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি. চেয়ারম্যান মেলিটা মেহজাবীন, ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড এসোসিয়েশন পার্টনার ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ইউএন উইম্যান-এর ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেসেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ফারজানা লালারুখ, মেঘনা ব্যাংক চেয়ারপারসন উজমা চৌধুরী, সাউথ এশিয়ার আইএফসি এডভাইজরি সার্ভিসেস-এর কর্পোরেট গভর্নেন্স অফিসার লোপা রহমান এবং ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের অংশগ্রহণে বেল বাজানো হয়।
পরে সাউথ এশিয়ার আইএফসি এডভাইজরি সার্ভিসেস-এর কর্পোরেট গভর্নেন্স অফিসার লোপা রহমান এর সঞ্চালনায় “নারীর নেতৃত্বের প্রধান চালিকাশক্তি ও কৌশল-সম্ভাবনার বিকাশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত” বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি. চেয়ারম্যান মেলিটা মেহজাবীন, মেঘনা ব্যাংক চেয়ারপারসন উজমা চৌধুরী, ইস্টিটিউট অব চ্যাটার্ড একাউন্ট্যন্টস অব বাংলাদেশ কাউন্সিল মেম্বার জেরীন মাহমুদ হোসেইন এবং ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড এসোসিয়েশন পার্টনার ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ফারজানা লালারুখ (Farzana Lalarukh) বলেন, পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসি নীতিমালা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আমাদের সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। “আমরা পুঁজিবাজারকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের সূচক হিসেবে দেখি। এই আস্থাই বাজার এবং অর্থনীতির শক্তি ও কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। এর জন্য আমরা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি এর মধ্যে-স্টক এক্সচেঞ্জ ও কমিশনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। অতীতের সমস্যাগ্রস্ত অধ্যায় থেকে বেরিয়ে এসে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে”।
বাজারকে গভীর ও বিস্তৃত করতে নতুন নতুন পণ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে জনগণ ও উদ্যোক্তারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগের বিকল্প বেছে নিতে পারেন।
আমাদের স্থানীয় শেয়ারবাজারকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাজারে নিরাপত্তা ও তারল্য বৃদ্ধি পাবে।
সমাপণী বক্তব্যে ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, আর্থিক খাতে ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় ভিন্ন এবং তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বৈশ্বিক আর্থিক খাতে-ওয়াল স্ট্রিট থেকে শুরু করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পর্যন্ত-নারীদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা এমন একটি কাঠামোর মধ্যে বিকশিত হয়েছে যেখানে অতিরিক্ত ঝুঁকি গ্রহণ এবং ‘উইনার টেকস অল’ ধরনের মানসিকতা প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু এই ধারা সব সময় সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর নয় এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই আর্থিক খাতে ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।