বাগেরহাটের খুলনা–মোংলা মহাসড়কে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই আনন্দের পরিবেশ শোকের মাতমে পরিণত হয়। একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ অনেকেই প্রাণ হারানোয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।বাংলাদেশ সংবাদ
দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে। সেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যান। পরে গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, যিনি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তিনি তার ছোট ছেলে সাব্বিরের বিয়ে দিয়ে নববধূকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে। অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে মোংলায় ফেরার পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নববধূসহ পরিবারের বহু সদস্য নিহত হওয়ায় পুরো পরিবার শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে সাব্বির, নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, মিতুর নানী আনোয়ারা বেগম, রাজ্জাকের মেয়ে লামিয়া, রাজ্জাকের স্ত্রী আঞ্জুমারা বেগম, রাজ্জাকের আরেক ছেলের স্ত্রী পুতুল এবং পুতুলের ছেলে আলিফ। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্জাকের আরেক মেয়ে ঐশি, ঐশির স্বামী সামিউল, ইরান, ইব্রাহিম সানি, মাইক্রোবাস চালক নাঈম এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। নিহতদের অনেকেই একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা একই পরিবারের দুই শিশুসহ সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, প্রথমে একই পরিবারের সাতজনের মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী, এক বছরের নিচে দুই শিশু, ১৩ বছরের এক শিশু এবং দুইজন পুরুষ ছিলেন। মোট ৯টি মৃতদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
অন্যদিকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজেশ জানান, তাদের হাসপাতালে আরও চারটি মৃতদেহ রাখা হয়েছে।বিয়ের আনন্দযাত্রা থেকে ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা শোকাহত হয়ে পড়েছে। একই পরিবারের বহু সদস্যের মৃত্যু স্থানীয়দেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।