ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ৪:২৮ পূর্বাহ্ন

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে হয়েছে। এ সময় জামায়াতের এক ইউনিয়ন আমিরের ভাই হাফিজুর রহমান (৫০) মারা গেছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর কাকরাইলে একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে হাফিজুরের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানকে (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ২টার দিকে জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফ জোয়াদ্দার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আরিফ জোয়াদ্দার বলেন, হাসাদার ঘটনায় বাঁকা ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই ও ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক হাফিজুর রহমান ভাই মারা গেছেন। মফিজুর রহমানের অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, হাফিজুরের লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির রুহুল আমিন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই ঘটনায় জামায়াত বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াতের সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষে আহত মেহেদী বলেন, ‘আমি বাজার করতে গিয়েছিলাম। এ সময় আমার আব্বা ফোন করে বলেন, জামায়াতের লোকজন বাড়িতে আক্রমণ করেছে। এসে দেখি আমার আব্বাকে মারধর করা হচ্ছে। এ সময় ইসরাইলের নেতৃত্বে সোহাগ এসে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে আমার মুখে কোপ মেরেছে। আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’

মেহেদীর বাবা জসিম উদ্দীন বলেন, ‘আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলাম। তখন ইসরাইল হুজুর বেশ কয়েকজনকে নিয়ে নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়ে হামলা শুরু করে। আমি বলেছিলাম, আগে কথা শোনো; কিন্তু তারা কিছু না শুনেই আমাকে মারধর করে। পরে সুটিয়ার এক ছেলে ও সোহাগ মারধর করে। এরপর আমার ছেলে এলে তাকেও মারধর করা হয়। তাদের হাতে রামদা, হকিস্টিক ও চায়নিজ কুড়াল ছিল।’

রাতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হামলায় আহত জামায়াতের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সম্ভবত তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের পর মামলা করা হবে।’

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জীবননগর থানা পুলিশের একটি টিম। জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, হাসাদহে জামায়াত ও বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পরিবেশ এখন অনেকটা শান্ত আছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ