আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ব্যাংকের তিনজন ডেপুটি গভর্নর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে মো. মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। যোগদানের তারিখ থেকে তিনি অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করবেন। বেতন-ভাতা ও সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাবেন।
তিনি ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গতকালই আলাদা প্রজ্ঞাপনে মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। মনসুর ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নর হন এবং ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু করেন। কিন্তু গতকালের ঘটনার পর তিনি অফিস ছেড়ে চলে যান। তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি, টেলিভিশনে নতুন নিয়োগের খবর দেখে বাড়ি চলে যাই।”
মো. মোস্তাকুর রহমান একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী এবং খরচ ও ব্যবস্থাপনা হিসাববিদ। তিনি বিজিএমইএ, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।
এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর করা হলো। এর আগে দশকের পর দশক অর্থনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা বা শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকে গভর্নর নিয়োগের রীতি ছিল।
যোগদানের সময় প্রতিক্রিয়া
ব্যাংকে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এসেছি; কাজ শুরু করি; তারপর কথা বলা যাবে।” ব্যাংক কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করেন।
এই নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং নতুন সরকারের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং সুদের হার নিয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে।