কিউবার জলসীমায় প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত স্পিডবোটের চার আরোহীকে গুলিতে হত্যা করেছে কিউবার সীমান্তরক্ষীরা। এমনটি জানিয়েছে কিউবা সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি কোস্ট গার্ড ভেসেল বা উপকূলরক্ষী জাহাজ স্পিডবোটটির দিকে এগিয়ে গেলে ওই বোটের আরোহীরা গুলি চালায়। এরপর জাহাজটিতে থাকা সেনারা পাল্টা গুলি চালালে ওই চারজন নিহত হন। কিউবার উত্তর উপকূলের একটি দ্বীপের কাছে ঘটা এই ঘটনায় আরও ছয় আরোহী আহত হয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ওই নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছি।’ তিনি জানান, নৌকাটিতে মার্কিন সরকারের কোনো কর্মী ছিলেন না।
কিউবা সরকার বলেছে, তারা ওই নৌযানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাঁরা ওই এলাকায় কী করছিলেন, সে সম্পর্কে জানে না এবং ঘটনাটি ‘স্পষ্ট’ করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত ওই নৌযানটি বুধবার সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ভিলা ক্লারা প্রদেশের কায়ো ফ্যালকোনসের কাছে শনাক্ত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, যখন পাঁচজন সীমান্তরক্ষীবাহী নৌকাটি শনাক্তকরণের জন্য সেটির কাছে পৌঁছায়, তখন ‘আইন লঙ্ঘনকারী স্পিডবোটের ক্রুরা গুলি চালায়’ এবং কিউবান কমান্ডারকে আহত করে। এতে আরও বলা হয়, ‘এই সংঘর্ষের ফলে ওই বিদেশি নৌযানে থাকা চারজন আক্রমণকারী নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।’ আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

রুবিও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস থেকে কথা বলছিলেন, যেখানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুতে ক্যারিবীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘খোলা সমুদ্রে এ ধরনের গোলাগুলি দেখা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এটি এমন কিছু নয়, যা প্রতিদিন ঘটে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুঁজে বের করব ঠিক কী ঘটেছিল, কারা জড়িত ছিল এবং যা জানতে পারব তার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
রুবিও প্রতিশ্রুতি দেন, মার্কিন তদন্তকারীরা মূল তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘দ্রুত’ পদক্ষেপ নেবে এবং মার্কিন কোস্ট গার্ড হামলার ‘নিকটবর্তী স্থানে’ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না নৌযানটি কার দখলে রয়েছে। এটিই প্রথম জিনিস, যা আমরা জানতে চাই। যদি তাঁরা মার্কিন নাগরিক বা যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হন, তবে অবশ্যই আমরা এই ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে চাই।’ তবে তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবা সরকারের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করবে না এবং ওয়াশিংটন স্বাধীনভাবে ঘটনার তথ্যগুলো যাচাই করবে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র এবং কিউবার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ঘটল। কিউবা বর্তমানে গভীর জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন, যা ওই দ্বীপে ভেনেজুয়েলা (অঞ্চলের দীর্ঘদিনের মিত্র) থেকে তেল চালানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে আরও খারাপ হয়েছে। কিউবার বিবৃতিতেও এই উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান চ্যালেঞ্জের মুখে কিউবা তার আঞ্চলিক জলসীমা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত করার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করছে।’
বুধবার মার্কিন ট্রেজারি তথা অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ‘বাণিজ্যিক ও মানবিক ব্যবহারের জন্য কিউবার জনগণকে সহায়তা করতে’ তেল বিক্রয়সহ কিছু ছোট বেসরকারি খাতের লেনদেনে শিথিলতা আনবে।


















