ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪:০৮ পূর্বাহ্ন

করপোরেট ইন্স্যুরেন্স: আধুনিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার ভিত্তি

বর্তমানে করপোরেট জগতের পেশাজীবীরা কাজের চাপ আর ব্যক্তিগত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খান। প্রজেক্ট ডেডলাইন, মিটিং এবং অফিসের চাপের মাঝে নিজের স্বাস্থ্য বা ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পেছনে আর্থিক নিশ্চয়তার ভূমিকা অনেক। তবে, কোনো বড় বিপদ বা অসুস্থতা সামনে না আসা পর্যন্ত এই সুরক্ষা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করা হয় না।

সাধারণত পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম ব্যক্তির ওপর পুরো সংসারের দায়িত্ব থাকে। কোন কারণে সেই ব্যক্তি অসুস্থ হলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। চিকিৎসা খরচ বা আকস্মিক দুর্ঘটনার দুশ্চিন্তা একজন কর্মীর কাজের বা ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। আর এখানেই ইন্স্যুরেন্সের গুরুত্ব অনেক।

হেল্থ ইন্স্যুরেন্স বা লাইফ ইন্স্যুরেন্স শুধুমাত্র চিকিৎসা খরচের বোঝা হ্রাস করে না বরং এটি মানসিক শান্তি প্রদান করে। একজন ব্যক্তি যখন জানেন যে, জরুরি পরিস্থিতিতে তার এবং তার পরিবারের জন্য সুরক্ষা রয়েছে, তখন সেই অবস্থায় আর্থিক সংকট নিয়ে তার ওপর বাড়তি চাপ থাকে না। এই মানসিক প্রশান্তি তাকে কাজে আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং ব্যক্তিগত জীবনেও মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়।

এক সময় মনে করা হত, অফিসের জিম মেম্বারশিপ বা মাঝেমধ্যে বিনোদনের ব্যবস্থা মানেই কর্মীদের সুস্থতার খেয়াল রাখা। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে সত্যিকারের ‘ওয়েলনেস’ বলতে কর্মীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেও বোঝায়। বাংলাদেশে কর্পোরেট ইন্স্যুরেন্স সেবায় অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম হলো গার্ডিয়ান লাইফ। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ও কাস্টমাইজড গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স সমাধান প্রদান করে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো যায়। তাদের বিস্তৃত হাসপাতাল নেটওয়ার্ক, দ্রুত ক্লেইম নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং গ্রাহকসেবার মান কর্পোরেট গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। গার্ডিয়ানের মত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের হেল্থ ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে, যাতে প্রতিটি কর্মী তার কাজ এবং জীবনে স্বাচ্ছন্দ্যে মনোযোগ দিতে পারে।

যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধাকে গুরুত্ব দেয়, সেখানে কর্মীরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করেন। যখন কোন প্রতিষ্ঠান কর্মীকে কেবল একটি ‘পদবি’ হিসেবে না দেখে একজন ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করে, তখন কর্মীদের আনুগত্য ও কাজের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, অফিস থেকে গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স সুবিধা থাকলেও, প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব পলিসি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। ইন্স্যুরেন্স ভবিষ্যতের কোনো বিলাসিতা না ভেবে আজকের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখা উচিত। কারণ, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকলে তবেই পেশাগত জীবনে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। আর সেই সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি হলো সঠিক বিমা পরিকল্পনার মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

মনে রাখতে হবে, ইন্স্যুরেন্স কেবল একটি আর্থিক পণ্য নয়; এটি কর্মজীবি ব্যক্তি এবং তার প্রিয়জনের জন্য শান্তি, সুরক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের এক নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি।
বিজনেস আই/এসডি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ