লেবানন–সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, ভোরের দিকে সীমান্তের কাছাকাছি একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই চারজন প্রাণ হারান।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতদের একজন সিরীয় নাগরিক। তার নাম খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমাদ। বাকি নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দাবি করেছে, তারা লেবাননের ভেতরে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ সদস্যদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালিয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননের মাজদাল আনজার এলাকায় হামলাটি সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সংগঠন ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পিআইজে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডভিত্তিক একটি সশস্ত্র সংগঠন, যা গাজায় হামাস-এর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সংগঠনটি লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর মিত্র হিসেবেও পরিচিত। ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনো হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতার পরও লেবাননে প্রায় প্রতিদিন ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক এই হামলাও সেই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটেই ঘটল।
সব মিলিয়ে, সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাণহানির এই ঘটনা আবারও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার চিত্র সামনে এনে দিয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকলেও, সাধারণ মানুষের প্রাণহানিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা


















