ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ন

বইমেলা পেছাতে তারেক রহমানকে ‘প্রকাশক ঐক্যের’ খোলা চিঠি

আসন্ন অমর একুশে বইমেলা পবিত্র রমজান মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবার অনুরোধ জানিয়ে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রেরিত ওই চিঠিতে ১৪ জন প্রকাশক স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাসে বইমেলা শুরুর সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগে আছেন। তাদের আশঙ্কা, এ সময় মেলা আয়োজন করলে প্রত্যাশিত পাঠকসমাগম হবে না।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রোজার সময়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। ফলে বইমেলায় পাঠকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে এবং সামগ্রিক পরিবেশ প্রাণহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

প্রকাশকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করছেন রমজানে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করবে। ইতোমধ্যে মূলধারার তিন শতাধিক প্রকাশক অংশগ্রহণে অপারগতার কথা জানিয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, গত দেড় বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব প্রকাশনা খাতে গভীর সংকট তৈরি করেছে। কাগজের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকাশকরা আর্থিক চাপে আছেন। এর পাশাপাশি, নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততায় গত দুই মাস ছাপাখানাগুলো অধিকাংশ সময় অন্য কাজে নিয়োজিত থাকায় নতুন বই প্রকাশ কার্যত স্থবির ছিল।

এ প্রেক্ষাপটে প্রকাশকরা প্রশ্ন তোলেন, তাদের উদ্বেগ ও বাস্তব পরিস্থিতি সত্ত্বেও কেন বাংলা একাডেমি বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তবে তারা স্পষ্ট করেন, বইমেলা বর্জনের পক্ষে তারা নন; বরং সবার অংশগ্রহণে একটি সফল ও সমৃদ্ধ আয়োজন চান।

বসন্ত-ভালোবাসা দিবসে রঙিন গদখালীবসন্ত-ভালোবাসা দিবসে রঙিন গদখালী
চিঠিতে রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে দুটি নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে—প্রথমত, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত বইমেলা স্থগিত করা; দ্বিতীয়ত, ঈদের পর উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ণাঙ্গভাবে মেলার আয়োজন নিশ্চিত করা।

শেষাংশে প্রকাশকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রকাশনা শিল্পকে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ