চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) এবং ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (ইউএনজিসিএনবি)-এর যৌথ উদ্যোগে সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি যৌথ কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) মানদণ্ড এবং মার্কেট ইন্টিগ্রিটির উন্নয়নকে আরও কার্যকরী এবং গতিশীল করা।
“Advancing ESG & Market Integrity: Opportunities for Bangladesh” শীর্ষক এ কর্মশালাটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত সিএসই ভবনের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক শিল্পখাতের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রতিনিধিবৃন্দ, বিনিয়োগকারীগণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। কর্পোরেট প্রবৃদ্ধিকে নৈতিক স্বচ্ছতা, টেকসই উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসা চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে এ কর্মশালায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি নিবন্ধনের মাধ্যমে শুরু হয় এবং পরবর্তীতে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ-এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন।পরবর্তীতে প্রধান অতিথি হিসেবে ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মিস শাহামিন এস. জামান তার বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি পুঁজিবাজারে গ্লোবাল কমপ্যাক্টের দশটি নীতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ইউএনজিসিএনবি হলো ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্টের বাংলাদেশীয় নেটওয়ার্ক, যা দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দশটি নীতি ও এসডিজি-সম্মত টেকসই ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল নীতিমালা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে থাকে।
কর্মশালার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব মাবরুর এম. চৌধুরী এবং গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মিস শাহামিন এস. জামান এর দুইটি পৃথক উপস্থাপনা, যেখানে ইএসজি প্রকাশ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং টেকসই অর্থায়নের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট কোঅর্ডিনেটর মিস জুলিয়ানা আও কুইস্ট লসনের সঞ্চালনায় একটি উন্মুক্ত প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে সিএসই এবং ইউএনজিসিএনবির মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। দুই বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান নিম্নোক্ত বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে—
ইএসজি, করপোরেট গভর্ন্যান্স, টেকসই উন্নয়ন ও মার্কেট ইন্টিগ্রিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন দায়িত্বশীল ব্যবসা আচরণ প্রসারে যৌথ সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অ্যাডভোকেসি
পুঁজিবাজার উপযোগী টেকসই প্রতিবেদন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত গবেষণা, প্রতিবেদন ও নির্দেশিকা যৌথভাবে প্রণয়ন
সাসটেইনেবিলিটি ডে ও ইন্টেগ্রিটি ডে-এর মতো জাতীয় কর্মসূচিতে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা তুলে ধরা
এমওইউ-এর আওতায় সিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গতিশীল হবে, অন্যদিকে ইউএনজিসিএনবি টেকনিক্যাল দক্ষতা, রিসোর্স ও কাঠামোগত সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিএসই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মজুমদার বলেন,”ইউএনজিসিএনবির সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, নৈতিক ও টেকসই করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ছাড়াও অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইএসজি চর্চা উৎসাহিত করার মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ প্রসার এবং একটি টেকসই অর্থনীতি গঠনে অবদান রাখতে চাই।”
এই কর্মশালাটি টেকসই অর্থায়নের প্রতি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সমতা বিধানের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিএসই ও ইউএনজিসিএনবি আশা প্রকাশ করে যে, এই সহযোগিতা সামগ্রিক পুঁজিবাজারে ইএসজি মানদণ্ডের বিস্তারে অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ইন্টিগ্রিটি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
কর্মশালার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন সিএসই-এর চিফ রেগুলেটরি অফিসার, জনাব মোহাম্মদ মাহাদি হাসান, সিএফএ। তিনি বলেন,”আজকের এই সহযোগিতা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইএসজি নীতি ও বাজারের ইন্টিগ্রিটির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কেবল নিয়ন্ত্রক কাঠামোকেই শক্তিশালী করবে না, বরং টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং একটি অগ্রগামী অর্থনীতির পথ সুগম করবে।”